সারাদেশের উপজেলাগুলোতে সরকার কর্তৃক প্রশাসক নিয়োগের পরিকল্পনার গুঞ্জনের মধ্যেই কক্সবাজার সদর উপজেলায় সম্ভাব্য প্রশাসক হিসেবে জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে বীর মুক্তিযোদ্ধা (অব.) সুবেদার মেজর আবদুল মাবুদ চৌধুরীর নাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে এই পদে নিয়োগের দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, জনসম্পৃক্ততা এবং তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করার সফল অভিজ্ঞতার কারণেই তাঁকে এই পদের জন্য সবচেয়ে যোগ্য মনে করছেন স্থানীয়রা।
দেশের ৪২ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের পর সারা দেশের উপজেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে সরকার। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং পৌরসভায় প্রশাসক দেওয়া হচ্ছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আজকালের মধ্যে উপজেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ হতে পারে। আর ঈদের পরে পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ দিতে পারে সরকার। এদিকে উপজেলা পরিষদে
প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া গুঞ্জনে পর্যটন নগরী কক্সবাজার সদর উপজেলায় প্রশাসক পদে কে বসতে যাচ্ছে তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
স্থানীয় রাজনীতি ও জনপ্রতিনিধিত্বে আবদুল মাবুদের রয়েছে এক বর্ণাঢ্য অতীত ও সফলতার গল্প। ১৯৯৬ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর তিনি পুরোপুরি সমাজসেবায় মনোনিবেশ করেন। ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়ের ব্যাপক উন্নয়ন করে অবহেলিত খুরুশকুলকে তিনি একটি আধুনিক মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করেছিলেন। তাঁর এই অসাধারণ সাংগঠনিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে সরকার তাঁকে কক্সবাজার জেলার ‘শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান’ হিসেবে পুরস্কৃত করে।
এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের জীবনের রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল সামরিক অধ্যায়। ১৯৫৬ সালের ১৫ মে জন্মগ্রহণ করা আবদুল মাবুদ মাত্র ১৫ বছর বয়সেই পিতার নির্দেশে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় প্রাথমিক প্রশিক্ষণ শেষে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন সীমান্তবর্তী অভিযানে অংশ নেন। প্রায় ৫০ দিন প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধের পর তিনি তৃতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যুক্ত হয়ে রণাঙ্গনে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করেন।
বর্তমানে তিনি কক্সবাজার সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি দলটির উপজেলা শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি ওঠা পোস্টগুলোতে স্থানীয়রা বলছেন, রণাঙ্গনের এই বীর যোদ্ধা ও সাবেক সফল জনপ্রতিনিধিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আসবে। তাঁর সুশৃঙ্খল সামরিক অভিজ্ঞতা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করছে সচেতন মহল।