চকরিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আলমগীর চৌধুরীকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। চকরিয়া আইনজীবী সমিতির ঈদে মিলাদুন্নবীর অনুষ্ঠান থাকায় আলমগীর চৌধুরীর জামিন শুনানী করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টার দিকে চকরিয়া উপজেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেট কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
আজ ১০ সেপ্টেম্বর জামিন শুনানী হবে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী এডভোকেট ফয়জুল কবির।
জানা যায়, গত ৩০ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে চকরিয়া পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড়ের সায়মা প্লাজা এলাকা থেকে আলমগীর চৌধুরীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১০দিন ধরে পুলিশ পাহারায় চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন আলমগীর চৌধুরী।
বুধবার বিকাল ৪টার দিকে পুলিশ পাহারায় চকরিয়া উপজেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আলমগীল চৌধুরীকে ২০মিনিট রাখা হয় আদালতের হাজত খানায়। জামিন শুনানী না হওয়ায় পরে প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় আদালতে তার সমর্থকরা তার মুক্তি দাবী করেন। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। গত ৩১ আগস্ট সোমবার বিকালে চকরিয়া থানা হাজতে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
আলমগীর চৌধুরীর আইনজীবী ফয়জুল কবির জানান, আলমগীর চৌধুরী চকরিয়া পৌরসভার দুই দফা জনপ্রিয় মেয়র ছিলেন। বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন মামলায় আসামি করা হয় তাকে।
এসব মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন। গত ৩০ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের সায়মা প্লাজার সামনে থেকে আলমগীর চৌধুরীকে গ্রেফতার করে। পরদিন চকরিয়া থানার হাজতখানায় থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশের সহযোগিতায় চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ১০দিন চিকিৎসা শেষে ৯ আগষ্ট চকরিয়া উপজেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। ওইদিন চকরিয়া আইনজীবী সমিতির ঈদে মিলাদুন্নবীর মাহফিল থাকায় আলমগীর চৌধুরীর জামিন শুনানী হয়নি। ১০ আগস্ট জামিন শুনানীর দিন ধার্য্য করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আলমগীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে জিআর ৪৫৬/২৪ ও জিআর ৪১৭/২৪ দুটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন তিনি। আটকের পর ওই তিন মামলায় আলমগীরকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তবে শারীরিক অসুস্থতাবোধ করায় চকরিয়া উপজেলা জুড়িশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি অসুস্থবোধ করায় শুনানী হয়নি।