কক্সবাজার–২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা নতুন গতি পেয়েছে কুতুবদিয়ায় অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভাকে ঘিরে। গতকাল বিকেলে উপজেলার বড়গোপ সমুদ্র সৈকত প্রাঙ্গনে আয়োজিত এক জনসভা মুহূর্তেই জনসমুদ্রে রূপ নেয়। দূরদূরান্ত থেকে আসা হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় নির্বাচনী শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চে।
জনসভায় প্রধান অতিথি ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ কুতুবদিয়ার দীর্ঘদিনের অবহেলিত সমস্যাগুলোকে সামনে এনে তার নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কুতুবদিয়া আজও প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর অবকাঠামোগত ঘাটতির মধ্যে বন্দী। আমাকে সুযোগ দিলে প্রথম অগ্রাধিকার হবে একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, যাতে মানুষের ঘরবাড়ি ও জীবিকা রক্ষা পায়।
একই সঙ্গে তিনি কুতুবদিয়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ কলেজ স্থাপনের ঘোষণা দিয়ে বলেন, দ্বীপের শিক্ষার্থীদের আর পড়াশোনার জন্য মূল ভূখণ্ডে ছুটতে হবে না। স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক সংকটগুলো সমাধানে বিএনপি সরকার হলে বিশেষ প্রকল্প নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা এ টি এম নুরুল বশর চৌধুরী। তিনি বলেন, এই এলাকার মানুষ উন্নয়ন নয়, বছরের পর বছর পেয়েছে প্রতিশ্রুতি আর অবহেলা। আজকের এই জনসমুদ্র দেখাচ্ছে মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিতে প্রস্তুত।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট নূরুল আলম, আবু বক্কর ছিদ্দিক, মাওলানা শফিউল আলম, সিরাজুল মোস্তফা বাঁশি ও আলহাজ্ব মোহাম্মদ আকতার হোসাইন। তারা সবাই বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কক্সবাজার–২ আসন এবার হবে পরিবর্তনের প্রতীক।
জনসভার সভাপতিত্ব করেন সাবেক চেয়ারম্যান ছৈয়দ আহমদ চৌধুরী। তার বক্তব্যে তিনি বলেন, কুতুবদিয়ার মানুষ আর পরীক্ষানিরীক্ষার রাজনীতি চায় না, তারা চায় স্থায়ী সমাধান ও বাস্তব উন্নয়ন।
উল্লেখ্য, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজার–২ আসনে একাধিক প্রার্থী জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে কুতুবদিয়ার এই বিশাল জনসভা বিএনপির শক্ত অবস্থান এবং এলাকায় তাদের জনসমর্থনের বড় একটি প্রদর্শন হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।