বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান (ওএসপি, এনপিপি, এনডিসি, এনসিসি, পিএসসি)-এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ।
রবিবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর বনানীস্থ নৌবাহিনী সদর দপ্তরে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মহেশখালী ও কুতুবদিয়া সংলগ্ন সমুদ্র অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা হয়। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ উপকূলে ক্রমবর্ধমান জলদস্যুতা নির্মূল, মৎস্যজীবীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সমুদ্রপথে অবৈধ মাদক ও পণ্য চোরাচালান প্রতিরোধে নৌবাহিনীর কঠোর অবস্থান কামনার বিষয়টি আলোচনায় প্রাধান্য পায়।
বৈঠকে সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ মহেশখালী-কুতুবদিয়া চ্যানেলকে মাদক চোরাচালানের ‘রুট’ হিসেবে ব্যবহারের অপচেষ্টা রুখতে টহল জোরদার করার দাবি জানান। এছাড়া ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত কারণে মহেশখালীর শাপলাপুর পাহাড়ে একটি স্থায়ী নৌঘাঁটি স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা গুরুত্বের সাথে নৌ-প্রধানের কাছে তুলে ধরেন তিনি। এমপি ফরিদ বলেন, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার জনগণের জানমালের সুরক্ষা এবং দেশের ব্লু-ইকোনমির সম্ভাবনাকে এগিয়ে নিতে নিরাপদ সমুদ্রপথের কোনো বিকল্প নেই।
আলোচনাকালে মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় চলমান জাতীয় মেগা প্রকল্পগুলোর নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে স্থান পায়। সংসদ সদস্য আলমগীর ফরিদ বৈঠকে উল্লেখ করেন যে, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং এলএনজি টার্মিনালের মতো কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন স্থাপনাগুলোর নিবিড় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ব্লু-ইকোনমির সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানোর জন্য অপরিহার্য। তিনি এই অঞ্চলকে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রবেশদ্বার হিসেবে অভিহিত করে এর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে সংসদ সদস্য দেশের সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ও পেশাদারী ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি নৌ-প্রধানের মাধ্যমে নৌবাহিনীর সকল সদস্যকে তাদের সাহসী ও দেশপ্রেমমূলক কাজের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে নৌবাহিনীর বর্তমান তৎপরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান সংসদ সদস্যের উত্থাপিত বিষয়গুলোকে অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং উপকূলীয় নিরাপত্তা সুসংহত করতে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। শাপলাপুর পাহাড়ে নৌঘাঁটি স্থাপনসহ অন্যান্য প্রস্তাবনাগুলো গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনার আশ্বাস দেন নৌ-প্রধান।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নৌবাহিনী প্রধান এবং সংসদ সদস্যের মধ্যকার এই সমন্বিত উদ্যোগ মহেশখালী ও কুতুবদিয়া অঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি ঘটাবে। বিশেষ করে মাদক ও জলদস্যু আতঙ্কে থাকা স্থানীয় মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীদের মাঝে এই বৈঠক নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।