এ.এম.এমরান আহমেদ
পেকুয়ায় টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের প্রভাবে মাতামুহুরি নদীর মেহেরনামা অংশে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে মাতামুহুরি নদীর পানি ঢুকে তলিয়ে গেছে শতশত ঘরবাড়ি। উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, গত বুধবার রাতভর মেহেরনামা এলাকার বেড়িবাঁধ রক্ষায় স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহেদুল ইসলামসহ শত শত মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে বালুর বস্তা ফেলে ও বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে জোয়ারের তীব্র স্রোতে বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। এরপর মুহূর্তের মধ্যেই নদীর পানি আশপাশের গ্রামগুলোতে প্রবেশ করে।
বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার ফলে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, বাজার, রাস্তাঘাট, মাছের ঘের এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমি মুহূর্তের মধ্যে প্লাবিত হয়ে যায় । অনেক এলাকায় কোমর সমান পানি জমে থাকায় মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন। নৌকা ছাড়া যাতায়াত প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এদিকে পানিবন্দি মানুষের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবারের রান্নাঘর পানিতে ডুবে যাওয়ায় রান্না করাও সম্ভব হচ্ছে না। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন।
হরিণাফাডী এলাকার আমির খসরু বলেন, সকাল থেকে আমার বাড়ি ঘরে বন্যার পানি ঢুকে গেছে, রান্নাবান্না সব বন্ধ হয়ে যায়।
অন্যদিকে উপজেলার উজানটিয়া, রাজাখালী, মগনামা, টৈটং, শিলখালী, বারবাকিয়া ও সদর ইউনিয়নের অনেক এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দ্রুত বেড়িবাঁধ সংস্কার করা না হলে জোয়ারের পরবর্তী ঢলে আরও নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা জরুরি ভিত্তিতে ভাঙা বাঁধ মেরামত, পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।
৮ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য শাহেদুল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টির মধ্যে বুধবার সকাল থেকে মেহেরনামায় কোন অংশে যেন বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে না যায় অনেক চেষ্টা করছি কিন্তু অবশেষে ভেঙ্গে গিয়ে পেকুয়াসহ পুরো এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এতে শতশত ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে এবং পানিবন্দি মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এদিকে বৃষ্টি ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে পেকুয়ার বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।