কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনের বিএনপির মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী ও এই অঞ্চলের জনপ্রিয় নেতা লুৎফুর রহমান কাজল বলেছেন, ঈদগাঁও উপজেলা একটি উন্নয়ন সমৃদ্ধ এলাকা। কিন্তু দেড়যুগ ধরে এই এলাকার কোনো উন্নয়ন হয়নি। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে এই উপজেলাকে একটি সমৃদ্ধ আধুনিক উপজেলা রূপান্তর করা হবে। সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) ঈদগাঁও স্টেশনের আয়োজিত ধানের শেষ জনসভায় তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি আর আমার উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখুন; ইনশাল্লাহ ঈদগাঁও’র চিত্র পাল্টে যাবে। ঈদগাঁওতে খাসজমিতে বসবাসকারী ও ভূমিহীনদের সবার জন্য ভূমি বন্দোবস্ত করা হবে। আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ করে এক বছরের মধ্যে ঈদগাঁওকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলাতে রূপান্তর করা হবে। কোনো রাস্তঘাট ভঙ্গুর অবস্থায় থাকবে না। লবণের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হবে।’
এ প্রসঙ্গে লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, ‘ঈদগাঁওতে এখনো পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকা সেটা অত্যন্ত কষ্টকর বিষয়। ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ছাড়া ঈদগাঁওবাসী নিরাপদ নয়। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে এক বছরের মধ্যে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা হবে।’
বিএনপি কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্বের সাথে নিয়েছে উল্লেখ করে সাবেক সাংসদ কাজল বলেন, ‘দেশে মাস্টার্স ডিগ্রি, ডক্টর ডিগ্রি পাশ করে অনেক মানুষ বেকার জীবন কাটাচ্ছেন। কারণ তাদের যুগোপযোগী দক্ষতা নেই। তাই আমরা ক্ষমতায় বসলে কারিগরি শিক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেশের বেকারত্ব দূর করবো। এই জন্য শিল্পসৃমদ্ধ এলাকা হিসেবে ঈদগাঁওতে একটি কারিগরি কলেজ স্থাপন করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘২০০৬ সালে বিএনপি ক্ষমতার থেকে যাওয়ার পর ঈদগাঁওতে রাস্তাঘাটসহ অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন হয়নি। এমনকি কোনো সংস্কারও হয়নি। ফলে পুরো ঈদগাঁওয়ের সব রাস্তাঘাট ভঙ্গুর হয়ে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আমি নির্বাচিত হলে প্রথম বছরেই সব রাস্তাঘাট সংস্কার ও উন্নয়ন করে দেবো।’
বিএনপি প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, ‘কক্সবাজারের নেতৃত্বদানকারী অধিকাংশই ঈদগাঁও’র সন্তান। এই অঞ্চল থেকেই খালেকউজ্জামান, লুতু মিয়া, মোস্তাক মিয়া, শহীদুজ্জামানের বিজয় হয়েছে। ইনশাল্লাহ, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষের বিজয় হয়ে আপনাদের প্রতিনিধি হয়ে আমি সংসদের যাবো।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা আমার উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখুন। ভোট পর্যন্ত আপনারা আমার সাথে থাকেন; ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করুন। অতীতের মতো আগামীতেও আমি সারাজীবন আপনার সাথে থাকবো। আমি আপনাদের কোনোভাবেই ঠকাবো না। আপনাদের হক মেরে খাবো না।’
জামায়াত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শুনেছি, ঈদগাঁওতে জামায়াতের লোকজন ভোটারদের হুমকি দিচ্ছে। এটাতে আপনারা ভয় পাবেন না। এমন কেউ ঈদগাঁওতে জন্ম নেয়নি; যারা আপনাদের ক্ষতি করতে পারে। হুমকিতে কেউ ভয় পাবেন না; আমি আপনাদের সাথে আছি।’
ঈদগাঁও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কালামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সেলিম উল্লাহ মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মমতাজ আহমদ, কক্সবাজার পৌর বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল হুদা চৌধুরী, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি এড. মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, জেলা বিএনপি নেতা এড. আবু সিদ্দিক ওসমানী, প্রবীণ বিএনপি নেতা মাস্টার আবদুল কাদের, সাবেক সাংসদ মরহুম খালেকুজ্জামানের বড়পুত্র তানসির জামান উৎস, সাবেক ঈদগাঁও উপজেলা সাংগঠনিক বিএনপির সভাপতি আবু তাহের চৌধুরী, জেলা বিএনপির সদস্য মঞ্জুর আলম, শওকত আলম শওকত ও জানে আলম, জালালবাদ ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর তাজ জনি।
এছাড়াও জেলা উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। এর আগে দুপুর থেকে উপজেলার সব ইউনিয়ন থেকে বিশাল বিশাল নিয়ে মিছিল নিয়ে হাজার হাজার নারী-পুরুষ জনসভায় যোগ দেন।