কক্সবাজারে মাদক পাচারের জন্য নিত্যনতুন অভিনব কৌশল অবলম্বন করছে কারবারিরা, তবে পাচার রোধে পুলিশও বেশ সক্রিয়। এবার পিকআপ গাড়ির সামনের বাম্পারের ভেতরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে ইয়াবার বড় একটি চালান শহরে আনার পথে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন মো. ফয়সাল (৪১) নামের এক পেশাদার মাদক কারবারি। এ সময় তার কাছ থেকে ৮ হাজার পিস ইয়াবা এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপটি জব্দ করা হয়। গতকাল শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডস্থ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের দক্ষিণ পাশের সড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে এই অভিযান পরিচালনা করে সদর মডেল থানা পুলিশ।
আটক মো. ফয়সাল টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পুরান পাড়া এলাকার মৃত জহির আহম্মদ ড্রাইভারের ছেলে।
পুলিশ সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল শহরের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সামনের সড়কে চেকপোস্ট স্থাপন করে। যানবাহনে তল্লাশির একপর্যায়ে সন্দেহভাজন একটি পিকআপ গাড়িকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। গাড়িটি থামানোর পর চালক ফয়সালের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে পিকআপে মাদক থাকার কথা স্বীকার করে এবং নিজেই গাড়ির বাম্পারের ভেতরে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা ৮ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট বের করে দেয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ফয়সাল মূলত একজন ভাড়াইটে মাদক বাহক। টেকনাফের গফুর নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে সে ইয়াবার এই চালানটি সংগ্রহ করেছিল। চুক্তি ছিল, ইয়াবাগুলো কক্সবাজার শহরের অজ্ঞাত এক নারী ডিলারের হাতে পৌঁছে দিতে হবে। চালানটি সফলভাবে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারলে পারিশ্রমিক হিসেবে ফয়সালের ১৫ হাজার টাকা পাওয়ার কথা ছিল।
সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, আটক ফয়সাল একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে এর আগেও ২০২২ সালের ৫ এপ্রিল ঢাকার আশুলিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা (মামলা নং-১৩/২২৭) দায়ের করা হয়েছিল। ওসি আরও জানান, অভিযানে উদ্ধারকৃত ইয়াবা, মোবাইল ফোন ও পিকআপটি বিধি মোতাবেক জব্দ করা হয়েছে। এই চালানের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় আটক আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নতুন করে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান।
প্রসঙ্গত, কক্সবাজার সদর মডেল থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী যোগদানের পর থেকে মাদক, সন্ত্রাস, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করে ইতোমধ্যে স্থানীয়দের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তার চৌকস ও সাহসী নেতৃত্বে গত কয়েক মাসে পর্যটন শহরের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, আইসসহ নানা ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। একইসঙ্গে একাধিক শীর্ষ মাদক কারবারি, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও পেশাদার অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় এনে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিনি বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযানের ফলে অপরাধী চক্রের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।