আজ সমুদ্রনগরী কক্সবাজার সফরে আসছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সফরকে ঘিরে গোটা জেলাজুড়ে যেমন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে, ঠিক তেমনি নতুন করে আলোচনায় এসেছে কক্সবাজারের অবহেলিত অবকাঠামোগত নানা জনদাবি। এই মুহূর্তে সর্বস্তরের কক্সবাজারবাসীর পক্ষ থেকে যে দাবিটি সবচেয়ে জোরালোভাবে সামনে এসেছে, তা হলো শহরের অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ততম ‘বিমানবন্দর সড়ক থেকে হলিডে মোড়’ অংশটি দ্রুত ৪-লেনে উন্নীত করা। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে সড়কটির আধুনিকায়নে সরাসরি তাঁর সুদৃষ্টি কামনা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন শেষ পর্যায়ে এবং পর্যটন খাতে বিনিয়োগ প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পেলেও শহরের প্রধান প্রবেশপথ বিমানবন্দর-হলিডে মোড় সড়কের সংকীর্ণতা এখনও কক্সবাজারবাসীর অন্যতম বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে আছে। কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার সরকারি মেগা মাস্টারপ্ল্যান চলমান থাকলেও, শহরের প্রবেশমুখের যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো রয়ে গেছে সংকুচিত। আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক বিমানবন্দর থেকে পর্যটন জোনে প্রবেশের মূল সংযোগ মাধ্যম এই বিমানবন্দর-হলিডে মোড় সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন দেশি-বিদেশি হাজার হাজার পর্যটক ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা যাতায়াত করেন। অথচ, সড়কটি প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত সরু ও অপরিকল্পিত হওয়ায় প্রতিদিন এখানে তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমে বিমানবন্দর থেকে নামা পর্যটকদের হলিডে মোড় পার হতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়, যা বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের সুনামের ওপর এক ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ এই সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার পেছনে ৪টি অত্যন্ত যৌক্তিক ও সুনির্দিষ্ট কারণ তুলে ধরেছেন। প্রথমত, সড়কটি প্রশস্ত হলে বর্তমানের তীব্র যানজট থেকে চিরতরে মুক্তি পাবে কক্সবাজারের স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকেরা, যার ফলে নিত্যদিনের শ্রমঘণ্টার অপচয় কমবে। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহারের সুফল পুরোপুরি পেতে হলে মসৃণ যাতায়াত ব্যবস্থা জরুরি, যা বিদেশি ও উচ্চপদস্থ পর্যটকদের যাতায়াত সহজ করে পর্যটন শিল্পের বৈপ্লবিক বিকাশ ঘটাবে। তৃতীয়ত, বর্তমানের সরু ও ব্যস্ততম রাস্তায় প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটে বিধায় ৪-লেনে রূপান্তর করা হলে ওয়ান-ওয়ে ট্রাফিক সিস্টেমের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। চতুর্থত, বিমানবন্দর, পর্যটন এলাকা, ঘাট এবং ব্যবসা কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হলে পরিবহন ব্যয় ও সময় কমে আসবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন সামাজিক ও বাণিজ্যিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই বিনীত আবেদন জানানো হচ্ছে, যেখানে সর্বত্র একটিই স্লোগান ধ্বনিত হচ্ছে- "কক্সবাজারের উন্নয়ন, বাংলাদেশের উন্নয়ন"।
উল্লেখ্য, কক্সবাজার বিমানবন্দর বর্তমানে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন প্রবেশদ্বার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে রানওয়ে সম্প্রসারণ, নতুন টার্মিনাল নির্মাণ ও আধুনিকায়নের বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, নতুন এই টার্মিনাল বছরে প্রায় ১৮ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে এবং রানওয়ে সম্প্রসারণের মাধ্যমে বড় আকারের উড়োজাহাজ পরিচালনার সুযোগও সৃষ্টি হচ্ছে। তবে অবকাঠামোগত এসব উন্নয়নের বিপরীতে বিমানবন্দর থেকে শহরের পর্যটন জোনে প্রবেশের প্রধান সড়কটি এখনও সংকীর্ণ থাকায় পর্যটক ও স্থানীয়দের দুর্ভোগ কমছে না। পর্যটন মৌসুম ও ছুটির সময়ে কক্সবাজারে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমনে বিমানবন্দর সড়ক, কলাতলী ও হোটেল-মোটেল জোনে তীব্র যানজট সৃষ্টি হওয়ার ঘটনা নিয়মিত দেখা যায়। ফলে বিমানবন্দরের আধুনিকায়নের সুফল পুরোপুরি পেতে বিমানবন্দর-হলিডে মোড় সড়ককে দ্রুত ৪-লেনে উন্নীত করার দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
এ সড়কটির গুরুত্ব শুধু পর্যটনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কক্সবাজার শহরের ৬ নম্বর ঘাট ও নুনিয়ারছড়া ঘাট ব্যবহার করে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে যাতায়াত করেন। ফলে বিমানবন্দর-হলিডে মোড় সড়কে সৃষ্ট যানজটের প্রভাব শুধু পর্যটকদের নয়, দ্বীপাঞ্চলের সাধারণ জনগণের দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপরও সরাসরি পড়ে।
কক্সবাজারের সচেতন নাগরিক সমাজ ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ মনে করেন, দেশের পর্যটন রাজধানী হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারের সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে এই সড়ক সম্প্রসারণ এখন সময়ের অন্যতম বড় দাবি। প্রধানমন্ত্রীর সফরে বিমানবন্দর-হলিডে মোড় সড়কটি ৪-লেনে উন্নীতকরণের বিষয়ে ইতিবাচক ঘোষণা আসতে পারে বলে প্রত্যাশা করছেন কক্সবাজারবাসী। স্থানীয়দের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজারের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনা হবে এবং পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দ্বীপাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।