সংবিধানের দোহাই দিয়ে জুলাই সনদের আলোকে হওয়া গণভোটকে পাশ কাটানোর ষোড়যন্ত্র অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী।
গতকাল শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে কক্সবাজার জেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল গণমিছিলপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে বিকেল ৪টা থেকে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা জেলা প্রশাসন কার্যালয় চত্বরে সমবেত হতে থাকেন।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সেক্রেটারি আল আমীন মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আমীরে জামায়াত অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন ছিল দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার ও ফ্যাসিবাদের কবল থেকে মুক্তির আন্দোলন। এটি শুধুমাত্র ক্ষমতার পালাবদলের জন্য ছিল না, বরং দেশের আমূল পরিবর্তন ও জনস্বস্তি নিশ্চিত করার জন্য ছিল।”
সরকারের বর্তমান ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “জুলাই সনদের আলোকে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় ও সংস্কারের বিপক্ষে গিয়ে সংবিধানের অজুহাত দেখানো বন্ধ করতে হবে। সংস্কারের পক্ষে জনগণের বড় অংশের মতামত থাকা সত্ত্বেও তা অবজ্ঞা করা হচ্ছে। জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে এখনো সময় আছে- গণভোটের রায় মেনে কাজ করুন; অন্যথায় দেশের মানুষ আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।”
তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, “২০২৪ সালের ১ আগস্ট আওয়ামী লীগ জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিল, আর তার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় গণঅভ্যুত্থানের মুখে তাদেরই দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। জামায়াত হানাহানি চায় না, তবে জনগণের অধিকার হরণ করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন- জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু তাহের চৌধুরী, শামসুল আলম বাহাদুর, মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন, সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুহাম্মদ হেদায়াত উল্লাহ, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট জাফর উল্লাহ ইসলামাবাদী, কক্সবাজার শহর আমীর আবদুল্লাহ আল ফারুক, রামু উপজেলা আমীর ফজলুল্লাহ মুহাম্মদ হাসান, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মীর মুহাম্মদ আবু তালহা ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার উদ্দিন হেলালীসহ জেলা ও স্থানীয় জামায়াতের শীর্ষ নেতারা।
সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসন কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বিশাল গণমিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পেট্রোল পাম্প এলাকায় গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। মিছিলে জামায়াত ও শিবিরের সর্বস্তরের হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।