মাত্র ৬ ইউনিয়নের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় গত এক বছরে পানিতে ডুবে অর্ধ শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত বছর নভেম্বরেই সর্বোচ্চ মারা গেছে ৯জন শিশু। সেপ্টেম্বর মাসে পানিতে ডুবে মারা যাওয়া ৬ জন শিশুর মধ্যে দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নে ২ শিশুসহ এক দিনে মারা যায় ৩ শিশু। প্রতিটা বাড়ির আঙ্গিনায় পুকুর,খাল, লবন মাঠের গর্ত, ডোবা এমনকি পানির বালতির মাঝেও পড়ে এভাবে মারা যাচ্ছে শিশুরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্র জানায়, গত ২০২৫ সালে হাসপাতালে নিয়ে আসা পানিতে ডুবে এক বছরে মারা গেছে ৫৩ শিশু। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৩ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩ জন, মার্চে ২ জন, এপ্রিলে ২ জন, মে মাসে ৪ জন, জুন মাসে ৬ জন, জুলাইতে ৫ জন, আগষ্টে ৪ জন, সেপ্টেম্বরে ৬ জন, অক্টোবরে ৪ জন, নভেম্বরে ৯ জন ও ডিসেম্বরে ৪ জন শিশু মারা গেছে পানি ডুবির ঘটনায়। এছাড়া পানিতে হাসপাতালে নিয়ে আসা ২ জন শিশু প্রাণে বেচেঁ গেছে। এটি শুধু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা শিশুদের তথ্য। এছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলের পানির ডুবির ঘটনায় স্থানীয় প্রাইভেট চিকিৎসকের চেম্বারে নিয়ে আসা এমন মৃত শিশুর সংখ্যা রয়েছে অন্তত ৫ জন। ফলে গত এক বছরে অন্তত ৬০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে পানি ডুবির ঘটনায়। উপজেলায় যত্রতত্র পুকুর থাকায় পানি ডুবির ঘটনা বেড়েই যাচ্ছে। ২০১৮ সালে এক বছরে মারা গেছে ৮০ জন শিশু।
২০২৩ সালেও এই শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ৪৬ জনের মত। এসব বিষয়ে নিয়মিত সংবাদ প্রকাশ হলেও এটি প্রতিরোধে সরকারি কোন কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
কুতুবদিয়া স্বেচ্ছাসেবি সমন্বয় ফোরামের প্রতিনিধি সেজাউল করিম মনি বলেন, পানি ডুবিতে শিশু মৃত্যু রোধে ২০২২ সাল থেকে মানবিক টিম কুতুবদিয়ার সদস্যসহ জন সচেতনায় মাইকিং , লিফলেট বিতরণ, মসজিদের ইমাম, স্থানীয় চেয়ারম্যানকে স্মারকলিপি প্রদানসহ অনলাইনে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। কোনভাবেই অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের দিকে সারাক্ষণ দৃষ্টি রাখা সম্ভব হচ্ছেনা। পুকুরে ডুবে মৃত্যুর হার বৃদ্ধি রোধ হচ্ছেনা। প্রতিটা পুকুরে নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়া এ ই আতংক দূর করা সম্ভব হবেনা।
অপর দিকে পানিতে ডুবে শিশু মারা গেলে থানায় অবহিত করে ময়না তদন্ত ছাড়া শিশু দাফনের জন্য আবেদন করার নিয়ম থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে সংশ্লিষ্ট পরিবারে। আগে হাসপতালের চিকিৎসক কর্তৃক মৃত সনদ নিয়ে দাফন হত দ্রুত। নিয়মে মৃত শিশুর লাশ হাসপাতালের আঙ্গিনায় পড়ে থাকতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা। অধিকাংশ শিশুর অভিভাবকের উপস্থিতি, থানা থেকে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অপেক্ষা, আবেদন নানা ভাবে ভোগান্তি পোহাতে হয়।
থানার ওসি মো: মাহবুবুল হক বলেন, প্রতিটা অপমৃত্যুর জন্যই ময়নাতদন্ত রয়েছে। পরবর্তীতে আইনী জটিলতা এড়াতে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত শেষে অভিভাবকের মাধ্যমে লিখিত আবেদন নিয়ে লাশ হস্তান্তর করা হয়। দ্রুত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা করেন বলে জানান তিনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: রেজাউল হাসান বলেন, সরকারি হাসপাতালের প্রতিটা প্রোগ্রামে তারা হেলথ সেন্টার গুলোতে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য শিশুদের অভিভাবক, মায়েদের তাগিদ দিয়ে আসছেন। কিন্তু কাজ হচ্ছেনা। । অধিকাংশ পরিবারে ৩-৪টি করে সন্তান থাকায় মায়েরাও খেয়াল রাখতে পারেনা কিংবা গুরুত্ব পাচ্ছেনা। অধিক সন্তানের ক্ষেত্রে উপজেলা পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ ব্যর্থ। এটিও একটি কারণ বলে তিনি মনে করেন।