চকরিয়ায় দিনদুপুরে একটি বসতবাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। ৬-৭ জনের একদল ডাকাত কৌশলে ঘরে ডুকে বাড়িতে অবস্থানরত একমাত্র নারী সদস্যকে প্রথমে রশি দিয়ে হাত পা ও মুখমন্ডল বেঁধে ফেলে। পরে ডাকাতদলের সদস্যরা বাড়ির আলমিরা ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের সময় উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের রাজারবিল দক্ষিণ নয়াপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আরাফাতের বাড়িতে এ দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে চকরিয়া থানার ওসির নেতৃত্ব পৃথক দুটি টিম এদিন বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
ডাকাত কবলিত বাড়ির গৃহকর্তা মোহাম্মদ আরাফাত জানান, শুক্রবার দুপুরে আমি চাকুরীজনিত কারণে চকরিয়া পৌর সদরে অবস্থান করছিলাম। মা-সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও আত্নীয়ের বাসায় বেড়াতে যাওয়ায় বাড়িতে অবস্থান করছিলেন ছোটবোন ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নাঈমা জান্নাত। বাড়িতে পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগ নিয়ে একদল ডাকাত শুক্রবার নামাজের সময় কৌশলে ঘরে ডুকে বাড়িতে অবস্থানরত ছোটবোনেক প্রথমে রশি দিয়ে হাত পা ও মুখমন্ডল বেঁধে ফেলে।
পরে ডাকাতদলের সদস্যরা বাড়ির আলমিরা ভেঙে নগদ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা, আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।
গৃহকর্তা মোহাম্মদ আরাফাত আরও বলেন, জুমার নামাজের পরে আমি বাড়ি ফিরে দেখি বাড়িতে অবস্থানরত অসুস্থ ছোটবোনটি হাত পা বাঁধা অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘরে ডাকাতির বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ শুক্রবার বিকেলে দু'দফায় বাড়িতে যায়। পরে তারা পুরো বাড়ি ঘুরে দেখে চলে যান। এ ঘটনায় আইনী পদক্ষেপ নিবেন বলেও জানান ভুক্তভোগী গৃহকর্তা মোহাম্মদ আরাফাত।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়। পরে দ্বিতীয় দফায় আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি।
ওসি আরও বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোন অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।