পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে বিশ্বের মানের স্পোর্টস ট্যুরিজমের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে ফুটবল, ক্রিকেট ও প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডসহ ইনডোর সুবিধাসম্পন্ন স্পোর্টস ভিলেজ বা স্পোর্টস কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে। এছাড়া জেলা স্টেডিয়ামের সংস্কার ও উন্নয়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) দিনব্যাপী কক্সবাজার ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এসব পরিকল্পনার কথা জানান।
বিচ ফুটবল, বিচ ক্রিকেট, বিচ ভলিবল কিংবা সার্ফিং। বছর জুড়ে পর্যটন নগরী কক্সবাজার মেতে থাকে ক্রীড়া উৎসবে। এখানে আছে একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও জেলা স্টেডিয়াম। বিশেষ নজর দিলে এই স্থানই হতে পারে দেশের ক্রীড়া হাব
নতুন সরকার গঠনের এক মাসের মাঝেই কক্সবাজারে ছুটে আসেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। প্রতিমন্ত্রী পরিদর্শন করেন কক্সবাজার ক্রিকেট স্টেডিয়ামের গ্যালারি, একাডেমি ও মূল মাঠ। পরিদর্শন করে স্টেডিয়ামের বর্তমান বেহাল দশা দেখে সন্তুষ্ট নন তিনি। স্টেডিয়াম ঘিরে কক্সবাজারে বিশ্বের মানের স্পোর্টস ট্যুরিজম কেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
তিনি বলেন, অতীতে কক্সবাজারের স্পোর্টস সুবিধার অবস্থা সন্তোষজনক ছিল না। যদিও মাঠ ঠিক আছে, কিন্তু খেলোয়াড় ও দর্শকদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা প্রায় অনুপস্থিত ছিল। তিনি জানিয়েছেন, এবার বিষয়টি নতুনভাবে শুরু করতে চাওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারকে বিশ^মানের স্পোর্টস টুরিজমের জন্য গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এখানে ফুটবল, ক্রিকেট ও প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডসহ ইনডোর সুবিধা সম্বলিত স্পোর্টস ভিলেজ বা স্পোর্টস কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে। ঢাকায় মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক মানের আলো-সজ্জা ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য সিভিল এভিয়েশনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এটি সহজ কাজ নয়, তবে ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারকে বিশ্বের মানের স্পোর্টস টুরিজম স্পটে পরিণত করা হবে। বিদেশের উন্নত স্টেডিয়াম থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে কক্সবাজারের প্রকৃতি ও সৌন্দর্যের সঙ্গে খাপ খাইয়ে এমন সুযোগ সৃষ্টি করা হবে, যা খেলাধুলা প্রেমীদের জন্য আকর্ষণীয় হবে।
তিনি নিশ্চিত করেন, অতীতের যেকোনো দ্বন্দ্ব বা রসিকতা এখন আর নেই; সবকিছু সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে এবং তার নেতৃত্বে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। তিনি জনসাধারণ ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন, ইনশাআল্লাহ, এটি সফল হবে।
এদিকে জুমার নামাজ আদায় করে যান কক্সবাজার জেলা স্টেডিয়ামে। সেখানকার নাজুক অবস্থা সরেজমিনে দেখে দর্শকদের সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
তিনি বলেন, খেলাধুলার সময় ছোটখাটো উত্তেজনা বা মারামারি হতে পারে, তবে তার ফলে কোনো স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়। তিনি দর্শকদের কাছে আহবান জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সচেতন থাকার জন্য।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, তিনি কক্সবাজার জেলা স্টেডিয়াম এবং ইনডোর স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেছেন। আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে সারা বাংলাদেশে ৬৪টি জেলায় নতুন ক্রীড়া কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। কক্সবাজার জেলা স্টেডিয়াম সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যেই জাতীয় ক্রীড়া সংস্থাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা ক্রীড়া সংস্থা, স্থানীয় ডিসি ও সাংসদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী সকলকে আহ্বান জানান, তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করতে এবং খেলাধুলাকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে সক্রিয় সহযোগিতা করার জন্য। স্টেডিয়ামের সংস্কার ও উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
স্টেডিয়াম পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, জেলা প্রশাসক এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা।