পূর্ব দিগন্তে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলা নতুন বছরের শুরু। দুঃখ-গ্লানিকে বিদায় দিয়ে বর্ষবরণের আনন্দে মেতে ওঠার অপেক্ষায় বাঙালি। ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ বরণে পর্যটন নগরী কক্সবাজার বর্ণিল সাজে সেজেছে। হোটেল-মোটেলে প্রত্যাশিত বুকিং না থাকলেও পর্যটকদের জন্য রয়েছে নানা আয়োজন। সৈকতের বালুচরেও বসছে বৈশাখি উৎসব। এদিকে, ট্যুরিস্ট পুলিশের তত্ত্বাবধানে নেয়া হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়- সৈকতপাড়ের তারকামানের হোটেলগুলোতে যেন ব্যস্ততার শেষ নেই। পহেলা বৈশাখ ঘিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আলপনায় রঙিন হয়ে উঠেছে হোটেল প্রাঙ্গণ, শিল্পীর তুলির শেষ আঁচড়ে ফুটে উঠছে বৈশাখের রূপ।
হোটেলের বাইরের পাশাপাশি ভেতরেও সাজসজ্জায় যোগ হয়েছে বৈশাখের ছোঁয়া। বসানো হয়েছে বৈশাখি মেলার স্টল, টাঙানো হয়েছে নানা আয়োজনের ব্যানার। যদিও প্রত্যাশিত বুকিং হয়নি, তবুও পর্যটকদের আনন্দ দিতে আয়োজনে কোনো ঘাটতি রাখেননি হোটেল কর্তৃপক্ষ।
হোটেল কক্স-টুডের ম্যানেজার তাসবিয়া বলেন, নতুন বছর উপলক্ষে আমরা আয়োজন করেছি পিঠা উৎসব, মেহেদী উৎসব এবং বাংলা বাউল গানের মনোজ্ঞ পরিবেশনা। পর্যটকরা এসে যেন আনন্দে মেতে উঠতে পারেন এবং উৎসবকে প্রাণভরে উপভোগ করতে পারেন-সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই আয়োজন।
হোটেল ওশান প্যারাডাইসের মিশু বলেন, ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলার পাশাপাশি এবার রয়েছে বিশেষ বুফে লাঞ্চ (১,৭৯৯ টাকা)। আগের বছরগুলোতে কিছু আয়োজন শুধু ইন-হাউস গেস্টদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকলেও, এবার আমরা সবার জন্য উন্মুক্ত করেছি। যারা বুফে লাঞ্চ উপভোগ করবেন, তারা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন খেলাধুলায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাবেন। পুরো আয়োজনটি তিন দিনব্যাপী চলবে-পহেলা বৈশাখসহ পরবর্তী আরও দুই দিন।
শুধু হোটেলেই নয়, সমুদ্রসৈকতের বালুচরেও বসছে বৈশাখি উৎসব। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বৈশাখি মেলা ঘিরে মুখর হয়ে উঠছে পুরো এলাকা। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের আশা, নববর্ষে বাড়বে পর্যটকের আগমন-চাঙা হবে পর্যটন খাত।
কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মুকিম খান বলেন, বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখকে ঘিরে কক্সবাজারে ব্যাপক পর্যটক সমাগমের আশা করা হচ্ছে। এই উৎসব বাঙালির প্রাণের উৎসব হওয়ায় সৈকত এলাকায় আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হবে। পর্যটকদের আগমন বাড়লে ব্যবসায়িক কার্যক্রমও চাঙা হবে।
পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে কক্সবাজারে আসা প্রত্যেক ভ্রমণপিপাসু নির্বিঘ্নে ও আনন্দের সাথে তাদের ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন।
ট্যুরিস্ট পুলিশ জানিয়েছে, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গড়ে তোলা হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয়।
ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক জাহিদ হোসেন বলেন, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে কক্সবাজারে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পর্যটকের সমাগম হয়। তাই এবার তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সুগন্ধা, লাবনী ও কলাতলী সমুদ্রসৈকতে মূল টিম মোতায়েন থাকবে, পাশাপাশি ইনানিসহ অন্যান্য স্পটেও দায়িত্ব পালন করবে টুরিস্ট পুলিশ। বিশেষ ব্যবস্থায় তিন দিন ২৪ ঘণ্টা দুই শিফটে মোবাইল ও হোন্ডা টিম টহল দিবে।
পর্যটকদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত রয়েছে। যেকোনো সমস্যায় কক্সবাজার কন্ট্রোল রুমে (০১৩২০-১৬০০০০) যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে। সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে নিরাপদ ও আনন্দময় উদযাপনের প্রত্যাশা করেছে টুরিস্ট পুলিশ।
বর্ণিল আয়োজন আর বাড়তি নিরাপত্তায় পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত কক্সবাজার। সংশ্লিষ্টদের আশা, উৎসবমুখর পরিবেশে প্রাণ ফিরে পাবে পর্যটন খাত।