খুব দ্রুতই দেশের ক্রিকেটে ফিরতে যাচ্ছেন সাকিব আল হাসান। ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আর বিসিবি’র যৌথ উদ্যোগে চলছে তার নামে থাকা মামলা নিষ্পত্তির কাজ।
বুধবার (০৪ মার্চ) দুপুরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর। এদিন, কক্সবাজার স্টেডিয়াম নিয়েও নানান পরিকল্পনার কথা জানান বিসিবি কর্তা।
সরকার পরিবর্তনের পর সাকিব আল হাসানের জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে আলোচনা চলছে জোরেশোরে। সাবেক টাইগার অধিনায়কের নামে থাকা মামলাগুলো নিয়েও কথা চলছে নীতিনির্ধারণী মহলে। সাকিবের প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়েছে বলে জানালেন বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর। খুব দ্রুতই এই অলরাউন্ডার ফিরছেন- প্রত্যাশা এই বোর্ড কর্তার।
তিনি বলেন, সাকিব আল হাসানকে ঘিরে যে বিষয়টি রয়েছে, তা নিয়ে আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি এখন মন্ত্রণালয়ের পর্যায়ে আছে এবং তারা এ নিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি বিসিবির লিগ্যাল টিমও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, যাতে সাকিবের আইনগত জটিলতাগুলো দ্রুত সমাধান করা যায়।
বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর বলেন, “মন্ত্রণালয় ও বিসিবি সমন্বিতভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করছে। আমরা খুবই আশাবাদী, অল্প সময়ের মধ্যেই সাকিব আল হাসানকে আবার বাংলাদেশের ক্রিকেটে দেখতে পাবো। দেশের কোটি ভক্তের মতো আমরাও তার প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় আছি।”
কক্সবাজারে ইয়াং টাইগার্স অনুর্ধ্ব ১৮ টুর্নামেন্টের ফাইনাল দেখতে এসে এসব কথা জানান আসিফ। যে ফাইনালে ঢাকা মেট্রোকে ইনিংস ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাজশাহী। উঠতি তারকাদের খেলা দেখে মুগ্ধতা ঝরে বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর হাবিবুল বাশারের কণ্ঠে।
তিনি বলেন, বয়সভিত্তিক কার্যক্রমের আওতায় অনুর্ধ্ব-১৪, অনুর্ধ্ব-১৬ এবং অনুর্ধ্ব-১৮ এই তিনটি পর্যায়ে সারা দেশের জেলা ও বিভাগ মিলিয়ে নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়। এবারের অনুর্ধ্ব-১৮ প্রতিযোগিতাটি ছিল জাতীয় রাউন্ড। এর আগে সব বিভাগ একে অপরের সঙ্গে খেলেছে, সেখান থেকে সেরা আটটি দল জাতীয় রাউন্ডে অংশ নেয় এবং চূড়ান্ত পর্ব শেষে চ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হয়েছে।
বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর হাবিবুল বাশার বলেন, এই অনুর্ধ্ব-১৮ টুর্নামেন্ট থেকে জাতীয় দলের নির্বাচকরা চারটি দল বাছাই করবেন। এই চারটি দল নিয়ে আয়োজন করা হবে ইউথ ক্রিকেট লিগ (ওয়াইসিএল)। সেখানে চারদিনের ম্যাচ ও ৫০ ওভারের খেলা অনুষ্ঠিত হবে। মূলত যারা জাতীয় রাউন্ডে ভালো পারফরম্যান্স করেছে, তাদের মধ্য থেকে প্রায় ৬০ জন খেলোয়াড় নিয়ে এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে।
হাবিবুল বাশার আরও বলেন, এই প্রতিযোগিতার পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের জন্য খেলোয়াড় বাছাই করা হবে। বয়সভিত্তিক এই ধারাবাহিক আয়োজন- অনুর্ধ্ব-১৪ থেকে অনুর্ধ্ব-১৬ এবং অনুর্ধ্ব-১৮ বাংলাদেশ ক্রিকেটে একটি শক্তিশালী পাইপলাইন তৈরি করছে। এখান থেকে যারা ধারাবাহিকভাবে ভালো করছে, নির্বাচকরা তাদের পর্যবেক্ষণে রাখছেন।
এদিন কক্সবাজার স্টেডিয়াম ঘুরে দেখেন বিসিবির এই দুই কর্তা। বয়সভিত্তিক আর নারী ক্রিকেট আয়োজন হলেও, যে ভেন্যুতে হচ্ছে না ছেলেদের আন্তর্জাতিক কোন ম্যাচ। আর এই ব্যর্থতায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাঁধে দায় চাপালেন আসিফ আকবর।
তিনি বলেন, এটি মূলত একটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম হিসেবে পরিকল্পিত হলেও বড় গ্যালারি না থাকায় বড় দলের আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন কিছুটা সীমিত। আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের জন্য যে ধরনের অবকাঠামো ও সুবিধা প্রয়োজন, তার বেশিরভাগই এখানে রয়েছে। তবে বড় দলের খেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে গ্যালারির অভাব একটি বিষয়, যা ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও এনএসসি’র অধীন।
আসিফ আকবর বলেন, “ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিলের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ফাইভ-স্টোরি স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাস্তবায়নে সময় লাগবে। এর মধ্যেই এখানে নারী ও বয়সভিত্তিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ নিয়মিত হচ্ছে। কক্সবাজারে ধারাবাহিকভাবে টুর্নামেন্ট আয়োজন হলেও সেগুলো যথাযথভাবে প্রচার পায় না।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, মিডিয়া ও বিসিবির মিডিয়া উইং সমন্বিতভাবে কাজ করলে কক্সবাজারের ক্রীড়া কার্যক্রম আরও বেশি ফোকাস পাবে। ইতোমধ্যে কক্সবাজারকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং খুব শিগগিরই এর ইতিবাচক ফলাফল দৃশ্যমান হবে।
বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর বলেন, কক্সবাজার স্টেডিয়াম নিয়ে যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সেটি একটি বড় ও আধুনিক প্রকল্প। উন্নতমানের স্টেডিয়ামের পাশাপাশি ফাইভ-স্টার হোটেল ও অ্যামিউজমেন্ট পার্কসহ সমন্বিত কমপ্লেক্স গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি ইতোমধ্যে অনুমোদিত পরিকল্পনা এবং যথাসময়ে এর বাস্তবায়ন শুরু হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে খেলা চলমান রয়েছে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ নিয়মিত আয়োজনের জন্য যে সব সুবিধা প্রয়োজন, সেগুলো নিয়ে সরকার কাজ করছে। প্রকল্পের নকশাও প্রস্তুত হয়েছে। তাই আর কিছুদিন অপেক্ষা করলে ইনশাআল্লাহ কক্সবাজার স্টেডিয়ামের ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাবে।
এর আগে সোমবার (০২ মার্চ) ইয়াং টাইগার্স অনূর্ধ্ব-১৮ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচটি উপভোগ করেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। আর ঘুরে দেখেন দেশের অন্যতম নান্দনিক এই ভেন্যুটিও।