অবশেষে প্রায় ১৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বহুল প্রতীক্ষিত রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের চরম ভোগান্তি আর জনদাবির মুখে কাজ শুরুর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণক্যাম্প স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী প্রকল্প এলাকায় নিয়ে এসেছে। এতে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী প্রায় তিন লাখ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরেছে।
বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কের ১২ কিলোমিটার অংশ আধুনিক মানদণ্ডে পুনর্নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯৫ কোটি টাকা। দরপত্র প্রক্রিয়া ও সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদন শেষে ঠিকাদার মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
তিনি জানান, বর্তমান সড়কের ১২ ফুট চওড়া পিচঢালা অংশ বাড়িয়ে ১৮ ফুটে উন্নীত করা হবে। এছাড়া উভয় পাশে ৩ ফুট করে মোট ৬ ফুটের হার্ড শোল্ডার থাকবে। মহিষকুম এলাকার বাঁকখালী নদীর পুরোনো বেইলি ব্রিজটি ভেঙে গার্ডার ব্রিজ করাসহ পুরো প্রকল্পে ৩টি নতুন ব্রিজ এবং ৪২টি কালভার্ট (মোট দৈর্ঘ্য ১৬৮ মিটার) নির্মাণ করা হবে। যেসব নিচু অংশে পানি জমে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেখানে টেকসই আরসিসি ঢালাই এবং বাকি অংশে পিচ ঢালাই দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে এই আধুনিকায়ন কাজ বাস্তবায়ন করছে বান্দরবান সওজ। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (আইডিএ) যৌথ অর্থায়নে ‘হোস্ট কমিউনিটি সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় কাজটি সম্পন্ন হচ্ছে। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজটি পেয়েছে শীর্ষস্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড’ (এনডিই)।
এদিকে কাজ দ্রুত এগোলেও সড়ক প্রশস্তকরণে কিছু প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে। সড়কের সীমানায় থাকা সহস্রাধিক চিহ্নিত গাছ কাটতে বিলম্ব হওয়ায় কক্সবাজার বিদ্যুৎ বিভাগের প্রায় ৪৫টি খুঁটি সরানো সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে কক্সবাজার বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদের গনি এবং রামু বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আবাসিক প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার মাহাতো জানান, গাছ কাটার কাজ সম্পন্ন হওয়া মাত্রই বিদ্যুৎ বিভাগ দ্রুততম সময়ে বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো সরিয়ে নেবে। খুঁটি ও গাছ অপসারণে বিলম্ব হলে সড়কের মূল কাজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে জানিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয় ব্যবসায়ী, যাত্রীসাধারণ এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রশাসন, বিজিবি ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, খানাখন্দ আর বড় বড় গর্তে ভরা এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ‘নাইক্ষ্যংছড়ির দুঃখ’ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। চরম ভোগান্তির কারণে এ পথে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। অবশেষে সড়কটির টেকসই সংস্কার ও আধুনিকায়ন শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।