ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুযোগে সীমান্তে তৎপর হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ মাদক পাচারকারী চক্র। নাফ নদীর জলসীমা ব্যবহার করে মিয়ানমার থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে তারা। তবে পাচারকারীদের রুখে দিতে সক্রিয় রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজারের টেকনাফে নৌবাহিনীর অভিযানে জব্দ করা হয়েছে পাঁচ লাখ ইয়াবা, যার বাজারমূল্য প্রায় পঁচিশ কোটি টাকা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যস্ততা তুঙ্গে। আর এই সুযোগটাই কাজে লাগাতে চেষ্টা করছে সীমান্তের সংঘবদ্ধ মাদক পাচারকারী চক্র।
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নাফ নদী জলসীমা দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচারের অন্যতম রুট। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়কে টার্গেট করে আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে মাদক কারবারীরা।
তবে ব্যস্ততার মাঝেও সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, বিশেষ করে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।
নৌবাহিনী জানায়, সংঘবদ্ধ একটি মাদক পাচারকারী চক্র নাফ নদী ব্যবহার করে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান বাংলাদেশে পাচারের পরিকল্পনা করে। চালানটি হ্নীলা ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া ব্রিজ এলাকা দিয়ে উলুচামারীর দিকে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। এমন তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফের নাটমুড়াপাড়ায় কৌশলগত অবস্থান নেয় নৌবাহিনীর একটি বিশেষ দল। কিন্তু পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে পাচারকারীরা পূর্বনির্ধারিত রুট পরিবর্তন করে চৌধুরীপাড়া খালের দক্ষিণ পাশ দিয়ে বস্তাভর্তি ইয়াবা বহন করে এগোতে থাকে।
নৌবাহিনীও দ্রুত কৌশল বদলায়। খালের উত্তর পাশ থেকে ধাওয়া দিলে মাদক পাচারকারীরা বস্তাভর্তি ইয়াবা ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচ লাখ পিস ইয়াবা জব্দ করে নৌবাহিনী। জব্দ করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় পঁচিশ কোটি টাকা।
সোমবার বিকেলে টেকনাফ কন্টিনজেন্ট কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে টেকনাফ কন্টিনজেন্ট কমান্ডার এস এম জাহিদ হোসাইন বলেন, দেশব্যাপী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকাগুলোতে নিয়মিত অভিযান ও টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বিশেষ করে উপকূলীয় ও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোকে মাদকমুক্ত রাখতে নৌবাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান টেকনাফ কন্টিনজেন্ট কমান্ডার।
নির্বাচনের সময় সীমান্তে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ বাড়লেও, মাদক পাচার রোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এমন তৎপরতায় স্বস্তি প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।