পর্যটন নগরী কক্সবাজারের কলাতলীর প্রধান সড়কের দুই পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ।
শনিবার (০৩ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কলাতলী মোড় থেকে জেলা কারাগার গেট হয়ে আবার কলাতলী মোড় পর্যন্ত অভিযানে অর্ধশতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
সওজ বিভাগ বলছে, জাতীয় মহাসড়কের রাইট অব ওয়ের দুই পাশে ১০ মিটার পর্যন্ত জায়গা তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন। ওই জায়গায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পাশাপাশি প্রায় ৬ একর সরকারি জমি দখলমুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাস টার্মিনাল থেকে কলাতলী মোড় এবং এরপর লিংক রোড পর্যন্ত অভিযান চালানো হবে।
কক্সবাজারের কলাতলী মোড় শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা। প্রতিদিন দূরপাল্লার অসংখ্য বাস এখানে থামে। সমুদ্রসৈকতে আসা পর্যটকেরাও এই সড়ক ব্যবহার করেন। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের দুই পাশে দীর্ঘদিন ধরে বাস কাউন্টার, হোটেল, রেস্তোরাঁসহ নানা ধরনের স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এতে সড়কের জায়গা সংকুচিত হয়ে যানজট ও পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে বলে পর্যটনসেবীদের অভিযোগ।
শনিবার অভিযানে কলাতলী মোড় থেকে সড়কের এক পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু হয়। বুলডোজার দিয়ে একের পর এক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। কয়েকটি স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আপত্তি জানান। পরে সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য সময় দেওয়া হয়।
তবে উচ্ছেদ হওয়া কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, তাঁদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি। এমনকি উচ্ছেদের বিষয়ে আগে থেকে মাইকিং বা যথাযথভাবে জানানো হয়নি।
দোকানি মো. মোবারক বলেন, মাত্র এক মাস আগে বোনদের স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে তিনি ছোট একটি ভাতের দোকান দিয়েছিলেন। এখনো ব্যবসা ভালোভাবে শুরু হয়নি। এর মধ্যে দোকান ভেঙে দেওয়া হলে বন্ধক রাখা স্বর্ণালংকারের টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় আছেন। পরিবার নিয়ে ওই এলাকায় থাকেন জানিয়ে তিনি বলেন, দোকানটি ভেঙে গেলে তাঁর আর কোনো আয়-রোজগারের পথ থাকবে না।
অন্যদিকে, প্রধান সড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, সড়ক দখলমুক্ত হলে পর্যটকদের চলাচল সহজ হবে এবং যানজটও কমতে পারে।
পর্যটন ব্যবসায়ী আবুল বাশার বলেন, প্রধান সড়কের দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা থাকায় পর্যটকদের চলাচলে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এতে পর্যটন ব্যবসায়ীরাও সমস্যায় পড়েছেন। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হলে পর্যটকদের চলাচল স্বাভাবিক হবে।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল হাসান নাঈম বলেন, জেলা প্রশাসন ও সওজ বিভাগের যৌথ উদ্যোগে অভিযানটি পরিচালনা করা হচ্ছে। মহাসড়ক আইনের বিধান অনুযায়ী, সড়কের দুই পাশে ১০ মিটার পর্যন্ত জায়গা সওজের নিয়ন্ত্রণাধীন। ওই জায়গায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হচ্ছে।
নাজমুল হাসান নাঈম বলেন, পরিচ্ছন্ন কক্সবাজার নগরী গড়ার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কলাতলী মোড় থেকে জেলা কারাগার গেট হয়ে আবার কলাতলী মোড় পর্যন্ত অর্ধশতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। কলাতলী থেকে শুরু হওয়া অভিযান পর্যায়ক্রমে লিংক রোড পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
সওজের কক্সবাজার বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দীক বলেন, জাতীয় মহাসড়ক আইনের বিধান অনুযায়ী, সড়কের রাইট অব ওয়ের দুই পাশে ১০ মিটার পর্যন্ত জায়গায় কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা হলে তা অবৈধ হিসেবে গণ্য হয়। এ বিষয়ে আগে থেকেই মাইকিং ও গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কলাতলী মোড় থেকে মহাসড়কের এক পাশের স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু হয়েছে। এক পাশের কাজ শেষে অন্য পাশেও অভিযান চালানো হবে। পর্যায়ক্রমে পুরো এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হবে। সওজের প্রায় ৬ একর জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সরকারি জমি উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।