টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, সেন্ট মার্টিন ও রাজারছড়া সৈকত থেকে জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা অজ্ঞাত পরিচয়ের তিন নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহগুলো বিকৃত ও পচাগলা হওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় কোনো ট্রলারডুবি অথবা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে আসার পথে নৌকাডুবির ঘটনায় মরদেহগুলো সাগরে ভেসে আসতে পারে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
শাহপরীর দ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) সনজীব বলেন, বুধবার সকাল ১১টার দিকে শাহপরীর দ্বীপের ঘোলাপাড়া সৈকত থেকে প্রথম মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরনের পোশাক দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহটি কোনো রোহিঙ্গা নারীর হতে পারে।
একই দিন দুপুরে সেন্ট মার্টিনের পশ্চিম সৈকত থেকে জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা আরেকটি অর্ধগলিত নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ সময় সাগরের পানিতে থাকায় মরদেহটি পচে গেছে। মাথাও বিচ্ছিন্ন ছিল। এ কারণে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
সেন্ট মার্টিন পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ওসমান গনি বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে মরদেহটি নৌপথে টেকনাফ বা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে স্থানীয় কবরস্থানে মরদেহটি দাফন করা হয়েছে।
বুধবার বিকেলে টেকনাফ সদরের রাজারছড়া সৈকতে ভেসে আসে আরও একটি হাড্ডিসার নারীর মরদেহ।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, মরদেহটি কঙ্কালসার হয়ে যাওয়ায় ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো সম্ভব হয়নি। পরে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে টেকনাফ পৌরসভার মাধ্যমে ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে মরদেহটি দাফন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, কয়েক দিন ধরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে। এ কারণে টানা ৮ দিন ধরে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সমুদ্রপথে দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।