বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে ইয়াবা পাচার রোধে আধুনিক প্রযুক্তি ‘হ্যান্ডহেল্ড রামান স্পেক্ট্রোমিটার’ ব্যবহার করে সফলতা পেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (১১ বিজিবি)। পাহাড় ও সীমান্তের বিভিন্ন দুর্গম পথ ব্যবহার করে অভিনব উপায়ে ইয়াবা পাচার রুখতে বিজিবি এই উদ্যোগ নিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার আদর্শগ্রাম চেকপোস্টে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বড় সফলতা আসে। লেবুভর্তি বস্তায় লুকিয়ে পাচারকালে এই ডিভাইস ব্যবহার করে প্রায় ১ লাখ পিস ইয়াবা শনাক্ত করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ কোটি টাকা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যস্ততার সুযোগ নিতে চেয়েছিল ইয়াবা কারবারিরা। তারা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য যেমন- লেবু, শাকসবজি, কাঠ ও বালুবাহী গাড়ি, যাত্রীবাহী সিএনজি, টমটম, ট্রাক, মাইক্রোবাস এবং মোটরবাইকে নানা কৌশলে ইয়াবা পাচারের ছক কষে। বিশেষ করে গাড়ির চাকা, ব্যাটারি বক্স, চালকের সিটের ভেতর এবং ট্রাকের ওপরের বক্সসহ বিভিন্ন গোপন স্থানে এসব মাদক লুকিয়ে পাচারের চেষ্টা করা হয়। এর আগেও এ ধরনের কৌশলে মাদক পাচারের ঘটনা ঘটেছে। তবে পাচারকারীদের এই অপতৎপরতা রুখতে একধাপ এগিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে ১১ বিজিবি।
বিজিবি সূত্র জানায়, চোরাকারবারিদের নিত্যনতুন কৌশলের বিপরীতে বিজিবিও তাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়িয়েছে। আধুনিক ডিভাইসের মাধ্যমে তল্লাশি কার্যক্রম আরও নিখুঁত ও জোরদার করা হয়েছে, ফলে অভিনব কৌশলেও মাদক পাচার করা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে ১১ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধসহ সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তায় বিজিবি সব সময় সতর্ক রয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজার মতো দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সীমান্তে নজরদারির ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, মাদক পাচার রোধে এখন ‘হ্যান্ডহেল্ড রামান স্পেক্ট্রোমিটার’ ব্যবহার করা হচ্ছে। এই আধুনিক পোর্টেবল ডিভাইসের কারণে এখন আর লুকিয়ে ইয়াবা বা অন্য কোনো অবৈধ পণ্য পাচার করা সম্ভব নয়। লুকানো স্থানে মাদক থাকলেও ডিভাইসের মাধ্যমে তা সহজেই শনাক্ত করা যাচ্ছে।