ফজলুর রহমান ২০২৫ সালের ২৩ আগস্ট একটি সাক্ষাৎকারে ৫ আগস্টের জন্য জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবিরকে দায়ী করে তাদেরকে ‘কালো শক্তি’ বলে অভিহিত করেন। এই বক্তব্যের পর তাকে বিএনপি থেকে শোকজ করা হয়। পরে তার দলীয় প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়।
সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে বেসরকারি ফলাফলে ৭৭ হাজার ৭০৪ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এডভোকেট রোকন রেজা শেখ পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৭৯৯ ভোট।
বলা হয়ে থাকে, জুলাই বিপ্লবে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু ইস্যুতে সবচেয়ে সোচ্চার ছিলেন এডভোকেট ফজলুর রহমান। তার মতো করে ওই সময়ে কোনও আওয়ামী লীগ নেতাকেও কথা বলতে দেখা যায়নি। যার জন্য তিনি নিজ দল বিএনপি থেকেও বহিষ্কৃত হয়েছেন। তাতেও তিনি মাথা নোয়াননি। এমনকি তার নির্বাচনী প্রচারণায়ও তিনি প্রতিটি বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ ও শেখ মুজিব বিষয়ে অনড় থাকবেন আমৃত্যু। তাই নয়, তিনি এটাও বার বার বলেছেন এবং এখনও বলছেন, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির সঙ্গে তার কখনও ‘আপস’ হবে না।
তার এই আপসহীন আলাপের কারণে অনেকেই তাকে ‘ফজু পাগলা’ বলে সম্বোধন করেন। অনেকে বলেন, তিনি সত্যিকারের ‘বীর’। যিনি এখনও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলমান রেখেছেন।
সম্ভবত সেই প্রেক্ষিতে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে নির্বাচিত হওয়া সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানকে দেশের অন্যতম সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদার প্রকাশ্য অভিবাদন জানালেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) তিনি তার সোশ্যাল হ্যান্ডেলে এই নেতার একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব ফজলুর রহমান... আপনাকে স্যালুট স্যার!!!!!’
শুধু বাপ্পা মজুমদারই নন, দেশের অসংখ্য মানুষ এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকেই ফজলুর রহমানকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন নানান ভাষায়।