কুতুবদিয়ায় হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়েও ন্যায্য মজুরি পাননা অনেক লবণ শ্রমিক। সারা দিন ৪০- ৫০ কেজির বস্তা বহন করে পান ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা মজুরি। লবণ ব্যবসায়ি সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে আছে বছরের পর বছর- এমন অভিযোগ শ্রমিকদের।
সতরুদ্দিন পেয়ারা কাটা নতুন জেটি ঘাটের লবণ শ্রমিক মো. রুবেল, ছরোয়ার, আরফাত ও ইয়াসিন জানান, এ ঘাটে অন্তত ৫০ জন শ্রমিক কাজ করেন। সড়ক থেকে ট্রলারে প্রতি বস্তা লবণ তুলে দিলে মজুরি দেয়া হয় সাড়ে সাত টাকা। বস্তায় ৪০ কেজি বলা হলেও লবণ থাকে প্রায় ৫০ কেজি। সকাল ৬ টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত একটানা কাজ করলে ৮০-৯০ বস্তা বইতে পারেন। দিন শেষে মজুরি মেলে ৬০০ - ৬৫০ টাকা।
শ্রমিক মানিক বলেন, গত ৪ বছর ধরে একই মজুরি দিয়ে আসছেন মালিক। সারা দিন খাটুনিতে একবেলা খাবারও দেয়া হয়না। ফলে মজুরির অর্ধেকটা তাদের খাবার, চা- নাস্তায় চলে যায়। মাসে কাজ থাকে গড়ে ২০ দিন। ঝড়- বৃষ্টি হলেও কাজ বন্ধ থাকে। লবণের দর এখন বেশি, কিন্তু মজুরি বাড়েনি। অন্তত প্রতি বস্তা লবণ বহণের জন্য ১০ টাকা নির্ধারণ করার দাবি করেন তিনি।
দরবার ঘাটে স্থানীয় ঘোনার মোড়ের লবণ শ্রমিক রিদোয়ান বলেন, ট্রলারে ১ মণ লবণ বহনে ৭ টাকা দেয়া হয়। ৬ মাস আগে দিত ৬ টাকা। দিনে সর্বোচ্চ ১০০ মন নিতে পারে একজনে। ২৫ জন শ্রমিক কাজ করে ওই ঘাটে। ৭০০ টাকা রোজগার হলেও বর্ষা মৌসুমে প্রতিদিন কাজ থাকেনা। যেসব শ্রমিক মাঠেও লবন টানে তারা মজুরি ভালো পায়।
ধুরুং ঘাটের লবণ ব্যবসায়ি আক্তার বলেন, লবণের দাম মাঠে বাড়লেও লবণ মিল মালিকরা বাড়তি দামে লবণ কিনছেন না। ফলে অনেক ব্যবসায়ি লবণ পরিবহণে বিরত আছেন। শ্রমিকরা ট্রলারে উঠাতে প্রতি মণ লবণ বহণে কোন কোন ঘাটে ৭ /৮ টাকা পায়।
মলমচর স্লুইসগেট ঘাটের লবণ ব্যবসায়ি মো. ইব্রাহীম বলেন, মাঠ থেকে সড়কে ও ট্রলারে প্রতি মণ লবণ উঠাতে শ্রমিকদের ২৩ টাকা দেন। এখন লবণের দাম ৪৬০ টাকা মণ। তারা লেবার, পরিবহণসহ সব খরচ বাবদ ৬০ টাকা নেন। মাঠে চাষিরা পায় ৪০০ টাকা।
কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শফিউল আলম বলেন, লবণ উৎপাদন মৌসুমে শ্রমিকরা ভালো মজুরি পেয়ে থাকে। বর্ষা মওসুমে বেকার লবণ চাষের শ্রমিকরাও ঘাটে লবণ বহণে যোগ দেয়। ফলে সব ঘাটে ট্রলারে লবণ বহণকাজে শ্রমিকের সংখ্যা অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় কাজ কমে যায়। এসময় লবণ পরিবহণও কমে যায়। সকল ঘাটের একই শ্রমিক দিয়ে মাঠের লবণ বহনেও ব্যবহার নিশ্চিত করা হলে শ্রমিকদের এই মজুরি বৈষম্য থাকবে না।