স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, 'কিসের হাসিনা? কোথায় বক্তব্য দিয়েছে? তার চেহারা কি দেখা গেছে? মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ শোনা যায়। তারা চেষ্টা করছে, বাংলাদেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায় কি না। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ কখনোই এসব গ্রহণ করবে না।'
শুক্রবার দুপুরে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'যারা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী, তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। তারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে ক্ষমাও চায়নি। তাই এ দেশে তাদের কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ বাংলাদেশের মানুষ কখনো দেবে না। বাংলাদেশের জনগণ তাদের রাজনীতি করার অনুমতি কোনোদিনই দেবে না।'
তারা বিদেশ থেকে মাঝেমধ্যে উঁকিঝুঁকি দিতে পারে, চিৎকার-চেঁচামেচি করতে পারে। তবে সরকার এসবকে আর গুরুত্ব দিচ্ছি না বলেও মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অপহরণের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, 'অপহরণসহ এ ধরনের অপরাধ দমনে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় স্থানে ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে জিওসি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন। আমরা তাকে এ বিষয়ে অনুরোধ করেছি এবং সরকারি পর্যায় থেকেও সেনাবাহিনীকে প্রয়োজনীয় এলাকায় ক্যাম্প স্থাপনের অনুরোধ জানানো হবে। আশা করছি, এতে অপহরণের মতো ঘৃণ্য অপরাধগুলো কার্যকরভাবে দমন করা বা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।'
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ভবন পরিদর্শন করেন এবং সেখানে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত হন।
যেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, 'প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করেই পর্যটনের উন্নয়নের চেষ্টা করতে হবে। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি অর্থনৈতিক শক্তিশালী বাংলাদেশ রেখে যেতে চাই। কক্সবাজারের সমুদ্র সম্পদ, পর্যটন শিল্প, গভীর সমুদ্র বন্দর এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক যে সম্পদ আছে, এগুলো আহরণ করলে বিশাল একটি রাজস্ব শুধুমাত্র কক্সবাজার থেকে আহরণ করা সম্ভব। গভীর সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গভীর সমুদ্রের সম্পদ আহরণের প্রচেষ্টা চলছে। কক্সবাজারে ব্লু-ইকোনোমি এবং মেরিন সাইন্স ইউনিভার্সিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। ওইখানে সমুদ্র ভিত্তিক গবেষণা পরিচালিত হবে।'
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের স্বপ্নচূড়া আবাসিক প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'কক্সবাজারকে শুধুমাত্র পর্যটন এলাকা হিসেবেই মানুষ চিনে। কিন্তু কক্সবাজারে যে আরো অনেক বেশি সম্পদ লুকায়িত আছে, সেগুলোকে আমাদের আহরণ করতে হবে। আমরা আবিষ্কার করেছি এখানকার সম্পদ। প্রকৃতি আমাদেরকে দিয়েছে। আমরা শুধু তার সম্ভাবনাকে আবিষ্কার করব। সে অর্জন করার মধ্য দিয়ে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আমরা একটি অর্থনৈতিক শক্তিশালী বাংলাদেশ রেখে যেতে চাই। এটাই হচ্ছে আমাদের প্ল্যান। তারেক রহমানের যে প্ল্যান সে প্ল্যান বাস্তবায়ন করব আমরা ইনশাল্লাহ। আর এই প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।'
মন্ত্রী কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করেই পর্যটনের উন্নয়নের চেষ্টা করবেন। প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করে রিসোর্ট বানানো হবে। শুধুমাত্র উচু উঁচু বিল্ডিং দিয়ে কোন ট্যুরিজম হতে পারে না, প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করে প্রাকৃতিকভাবে স্থাপনা করতে হবে। সমুদ্র সৈকতকে আরো সুন্দর করা হবে।'
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, প্রকৌশলী মোঃ জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ আরও বলেন, 'পুরো ১০০ কিলোমিটার জুড়েই সমুদ্রসৈকতকে ব্যবহার করা হবে। যাতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করা যায় সেইরকম কর্মকাণ্ড শুরু করতে হবে। কক্সবাজারকে নিয়ে যেন পুরো জাতি গর্ব করতে পারে সেভাবেই কক্সবাজারকে সাজাতে হবে।'
বক্তব্য শেষে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের স্বপ্নচূড়া আবাসিক প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এ সময় কক্সবাজারের উখিয়া টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, মহেশখালী কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোঃ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য এডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল মান্নান, পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান, কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডাক্তার মোহাম্মদ সাবের, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব সানজিদা বেগম, লেঃ কর্নেল আবু নাঈম মুহাম্মদ তালাত সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।