টেকনাফে দিনদুপুরে বাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে এক বৃদ্ধ হোমিও চিকিৎসককে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ না মেলায় পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
রোববার দুপুরে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী জুম্মাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অপহৃত কামাল উদ্দিন (৬৫) স্থানীয়ভাবে ‘বিএ কামাল’ নামে পরিচিত। তিনি ওই এলাকার মৃত মকবুল আহমদের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি হোমিও ও পল্লী চিকিৎসক হিসেবে স্থানীয় মানুষের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন।
অপহৃতের ছোট ছেলে, সৌদি আরবপ্রবাসী মো. ইমতিয়াজ বলেন, 'রোববার দুপুরে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল তাঁদের বাড়িতে প্রবেশ করে। পরে অস্ত্রের মুখে তাঁর বাবাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় তাঁর মা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকেও অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এরপর অপহরণকারীরা তাঁর বাবাকে নিয়ে চলে যায়। ঘটনার পর থেকে তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।'
ইমতিয়াজ বলেন, তাঁরা তিন ভাইই সৌদি আরবে কর্মরত। তিনি তিন মাস আগে ছুটিতে দেশে এসেছেন। এমন ঘটনার পর পুরো পরিবার চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে। তিনি দ্রুত তাঁর বাবাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, পাশের পাহাড় থেকে নেমে আসা একদল সশস্ত্র ব্যক্তি প্রকাশ্যে ওই চিকিৎসককে তুলে নিয়ে পাহাড়ের দিকে চলে যায়। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে অপহরণকারীরা আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। দিনের বেলায় এমন ঘটনায় পুরো এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. ইলিয়াস বলেন, অপহৃত চিকিৎসকের বাড়ি পাহাড়ের খুব কাছাকাছি। এলাকায় তিনি একজন সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তাঁর তিন ছেলে বিদেশে থাকায় মোটা অঙ্কের মুক্তিপণের আশায় তাঁকে অপহরণ করা হয়ে থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা। প্রকাশ্যে একজন মানুষকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক মো. আবু সাঈদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, 'খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং অভিযান চলছে। দ্রুত তাঁকে উদ্ধারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।'