মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার পার্বত্য জেলা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে চলমান ৫ প্রকল্প পরিদর্শন শেষে এক দক্ষতাবৃদ্ধি সংক্রান্ত এক প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ কর্মসুচীতে ৫০ জন সুবিধাভোগী অংশ গ্রহন করেন।
রোববার (১১ জানুয়ারি) দিন ব্যাপী এ কর্মসুচীতে ছিল উপজেলার পোল্ট্রি, মৎস্য, প্রাণী সম্পদসহ ৫ প্রকল্প। তিনি পরে এসব বিষয় তথা পোল্ট্রি রিসার্চ সেন্টার, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (BLRI), মৎস্য, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পোল্ট্রি গবেষণা, উন্নয়ন জোরদারকরণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের অর্থায়নে উন্নত প্রযুক্তিতে স্বাস্থ্যসম্মত, নিরাপদ ও ভ্যালু এডেড পোল্ট্রি উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ।
এ সব বিষয়ে তিনি খামারিদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কর্মশালার প্রধান অতিথি হিসেবে এ প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নেন।
তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি নাইক্ষ্যংছড়িস্থ বিএলআরআই আঞ্চলিক কেন্দ্রে রোববার (১১ জানুয়ারি) শেষ হয়। এর আগে শুরু হয় ৯ জানুয়ারি।
সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পোল্ট্রি রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক ও মুখ্য প্রশিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) এবং প্রকল্প পরিচালক, বিএআরআই ড. মোঃ সাইফুল করিম সরকার।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (BLRI)-এর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. শাকিলা ফারজানা।
এছাড়াও এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফরিদা আখতার বলেন, পোল্ট্রি খাত দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় খাত। আধুনিক প্রযুক্তি ও নিরাপদ উৎপাদন ব্যবস্থা প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ পোল্ট্রি শিল্পে স্বনির্ভরতা অর্জনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারবে। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত খামারিরাই ভবিষ্যতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের মূল চালিকাশক্তি হবে এবং সরকার এ খাতের টেকসই উন্নয়নে সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. শাকিলা ফারজানা বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে গবেষণাভিত্তিক, মানসম্মত ও বায়োসিকিউরিটি অনুসরণ করে পোল্ট্রি উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমেই এই খাতে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এই প্রশিক্ষণ কোর্সের মাধ্যমে স্থানীয় খামারিদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পোল্ট্রি উৎপাদন, রোগ ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং কার্যকর বাজারজাতকরণ বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।