কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বহুল আলোচিত ডাবল হত্যা মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি এতেসামুল হক ওরফে শাহীনকে (৩৭) গ্রেফতার করেছে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। র্যাবের সহযোগিতায় রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে আদালতে সে নিজের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামি এতেসামুল হক ওরফে শাহীন উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৬ (ব্লক-বি/৬)-এর মৃত নুর আহমদের ছেলে (এফসিএন নং- ২৯৫৬৭৪)।
১৪ এপিবিএন সূত্রে জানা যায়, পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) জানে আলম মুনশী এবং এসআই (নিঃ) মোঃ মাঈন উদ্দিন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি টিম র্যাবের সহায়তায় গত ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় ঢাকার বসুন্ধরা সিটির সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
তদন্তে বেরিয়ে আসে, হত্যাকাণ্ডের পর ক্যাম্প থেকে পালিয়ে বাঁচার জন্য আসামি একটি ভুয়া বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি নং- ৪৬২৬৭৬২০৯২) ব্যবহার করছিল। ভুয়া ওই পরিচয়পত্রে সে নিজের নাম কেবল "শাহীন" এবং ঠিকানা হিসেবে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার "দক্ষিণ বড়িশ্চর, মতিন কলোনি" ব্যবহার করে ক্যাম্প ছেড়ে ঢাকায় আত্মগোপন করেছিল।
গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জানায়, হত্যাকাণ্ডের দিন তার পরিহিত রক্তমাখা পাঞ্জাবিটি ক্যাম্প-৬ এর একটি মক্তব ঘরের টিনের চালের ওপর লুকিয়ে রেখেছিল। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে ক্যাম্প-৬ এর রাব্বানি মসজিদ সংলগ্ন মক্তবের চাল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে রক্তমাখা পাঞ্জাবিটি উদ্ধার ও জব্দ করে পুলিশ।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে উখিয়া থানার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হলে, আদালতে সে স্বেচ্ছায় হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে।
১৪ এপিবিএন-এর অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ সিরাজ আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উখিয়া থানার মামলা নং-১২ (তারিখ: ১০/০৭/২০২৬, ধারা: ৩২৬/৩০৭/৩০২/৩৪ পেনাল কোড) মূলে এ অভিযান পরিচালিত হয়। ক্যাম্পের নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে এপিবিএনের এমন কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে। এছাড়া আসামির অবৈধভাবে ক্যাম্প ত্যাগ ও ভুয়া এনআইডি সংক্রান্ত বিষয়ে লাম্বাশিয়া পুলিশ ক্যাম্পে সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৪০৫) করা হয়েছে।