স্বপ্নের মালয়েশিয়া কিন্তু সেই স্বপ্ন আর বাস্তব হলো না। সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় বঙ্গোপসাগর থেকে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ২৬৩ জনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এসময় মানবপাচার চক্রের ১০ দালালকে আটক করা হয়।
রোববার বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে পৌরসভার জালিয়াপাড়াস্থল টেকনাফ-মিয়ানমার ট্রানজিট জেটিঘাটে নিয়ে আসা হয়। এর আগে শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে বঙ্গোপসাগরে টহলরত নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বানৌজা স্বাধীনতা’ সেন্টমার্টিন্স দ্বীপ সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ মোট ২৭৩ জন এবং একটি কাঠের বোটসহ উদ্ধার করা হয়।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) রোববার (৪ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সেন্টমার্টিন্স দ্বীপ থেকে প্রায় ৩০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি কাঠের বোটের সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসে। নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে বোটটিকে থামার সংকেত দেওয়া হলে সেটি না থেমে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে নৌবাহিনীর তাৎক্ষণিক ধাওয়ায় বোটটি আটক করা হয়। আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, দালালচক্রের মাধ্যমে তারা অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে যাত্রা শুরু করেছিল। বোটটিতে দালালচক্রের ১০ জন সদস্যও ছিল। আটককৃত বোট ও ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে টেকনাফ-মিয়ানমার ট্রানজিট জেটিঘাটে উদ্ধার মো. জুনায়েদ বলেন, 'গতকাল রাজারছড়া ঘাট দিয়ে আমরা মালয়েশিয়া উদ্দেশ্য রওনা করি। যাত্রার ১৫ ঘন্টা পর সেন্টমার্টিনের অদূরে নৌবাহিনীর হাতে আটক হয়। মূলত ক্যাম্পের বন্দী জীবন থেকে মুক্ত হতে স্বপ্নের মালয়েশিয়া উদ্দেশ্যে এ যাত্রা ছিল। কিন্তু সেখানে স্বপ্ন ভেঙে গেছে।'
আটক হওয়া ট্রলারে মাঝি রোহিঙ্গা মোঃ এনায়েত উল্লাহ বলেন, 'এক বছরে আগেও আমি যাত্রী নিয়ে মালয়েশিয়ার গিয়েছিলাম। এটা দ্বিতীয় বার যাত্রা ছিল। মূলত টেকনাফের মহেষখালী পাড়ার ইসমাইল, আয়ুব, নয়ন, মৌলভী শফিক, আলী, জাকের দালাল যাত্রী রয়েছে।
উদ্ধার আরেক রোহিঙ্গা মোঃ আব্দুল মজিদ বলেন, আমরা আজ রাতের মধ্যে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্য রওনা হতাম ভাগ্য আমাদের আমাদের নৌবাহিনী আটক করেছে। আমাদের ট্রলারে নারী, শিশু, পুরুষ ছিল। কিছু বাংলদেশীও ছিল।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, মালয়েশিয়াগামী নৌবাহিনীর হাতে আটক দালালসহ ২৭৩ জনকে হস্তান্তর করেছে। পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।