জিন মহান আল্লাহর সৃষ্টি। তাদেরকেও ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। তাদের মধ্যেও ভালো খারাপ আছে। যারা‘ ভালো কাজ করবে জান্নাতে যাবে আর যারা মন্দ কাজ করবে জাহান্নামে যাবে। একজন মানুষ যেমন অন্য মানুষের ক্ষতি করতে পারে তেমনই একজন জিনও মানুষের ক্ষতি করতে পারে।
জিনের ক্ষতি থেকে বাঁচার দোয়া ও আমল
আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা
أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ، مِنْ هَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْثِهِ (উচ্চারণ : আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রজিম; মিনহামযিহি ওয়া নাফখিহি ওয়া নাফছিহি।)
অর্থ : আমি আল্লাহর কাছে বিতাড়িত শয়তান থেকে তার প্ররোচনা ও ফুৎকার থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
আরও পড়ুন: পবিত্র কোরআনে বর্ণিত ৫ খাবার
বাড়িতে প্রবেশ করতে দোয়া পড়া
হাদিসে এসেছে,
إِذَا دَخَلَ الرَّجُلُ بَيْتَهُ، فَذَكَرَ اللَّهَ عِنْدَ دُخُولِهِ وَعِنْدَ طَعَامِهِ، قالَ الشَّيْطَانُ: لا مَبِيتَ لَكُمْ، وَلَا عَشَاءَ
অর্থ: যখন কোনো ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশের সময় ও খাবারের সময় আল্লাহকে স্মরণ করে তখন শয়তান (নিজ সঙ্গীদেরকে) বলে, তোমাদের রাত কাটানোর কোনো জায়গা নেই; তোমাদের রাতের কোনো খাবারও নেই। (মুসলিম)
জিন ও শয়তান থেকে হেফাজত থাকতে রাতের কিছু করণীয়ও রয়েছে। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন এভাবে,
غَطُّوا الإِنَاءَ وَأَوْكُوا السِّقَاءَ وَأَغْلِقُوا الْبَابَ وَأَطْفِئُوا السِّرَاجَ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ لاَ يَحُلُّ سِقَاءً وَلاَ يَفْتَحُ بَابًا وَلاَ يَكْشِفُ إِنَاءً فَإِنْ لَمْ يَجِدْ أَحَدُكُمْ إِلاَّ أَنْ يَعْرُضَ عَلَى إِنَائِهِ عُودًا وَيَذْكُرَ اسْمَ اللَّهِ فَلْيَفْعَلْ فَإِنَّ الْفُوَيْسِقَةَ تُضْرِمُ عَلَى أَهْلِ الْبَيْتِ بَيْتَهُمْ
অর্থ: তোমরা (রাতের বেলা) পাত্রগুলো ঢেকে দাও; মশকগুলো (চামড়ার তৈরি পানি রাখার পাত্র বিশেষ)-এর মুখ আটকিয়ে দাও; ঘরের দরজা বন্ধ করে দাও এবং চেরাগ (আলো) নিভিয়ে দাও। কারণ, শয়তান মশকের বাঁধন খুলতে পারে না, দরজা খুলতে পারে না এবং পাত্রও উন্মুক্ত করতে পারে না। তবে তোমাদের কেউ পাত্র ঢাকার জন্য একটা কাঠি ছাড়া অন্য কিছু না পেলে যেন তাই রাখে এবং সাথে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে- ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পড়ে নেয়। কেননা ইঁদুর চেরাগের আগুন থেকে লোকজনসহ বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। (মুসলিম)
সুতরাং রাতে পাত্র আচ্ছাদিত করা বা ঢেকে রাখা, মশকের মুখ আঁটকে দেওয়া, দরজা বন্ধ করা এবং এ সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা; ঘুমের সময় চেরাগের আগুন নিভিয়ে দেওয়া আর সন্ধ্যার পর শিশু ও গৃহপালিত জন্তুগুলোকে (বাড়িতে) আটকে রাখা উত্তম।
সকাল-সন্ধ্যার দোয়া ও জিকির পড়া।
ঘরে সুরা বাকারা তেলাওয়াত করা।
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ঘরে সুরা বাকারা পড়া হয়; শয়তান সে ঘর থেকে পালিয়ে যায়। (মুসলিম)
বাড়িতে নফল নামাজ পড়া।
সন্ধ্যার সময় আয়াতুল কুরসি পড়া