বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের কোলাজেন ও ইলাস্টিনের উৎপাদন কমে যায়। ত্বক ক্ষীণ, ঢিলা, বলিরেখা দেখা দেয় এবং হাইড্রেশন কমে যায়। এ ছাড়া সূর্যের আলোক ও পরিবেশগত দূষণে ত্বক আরও নাজুক হয়ে পড়ে। এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে নানা ধরনের সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসা বা থেরাপি প্রয়োগ করা হয়। আধুনিক এস্থেটিক চিকিৎসায় পিডিআরএন থেরাপি নতুন দিক উন্মোচন করেছে, যা ত্বকের পুনর্জীবন প্রক্রিয়া সক্রিয় করে এবং সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনে।
পিডিআরএন থেরাপি কী : Poly‑deoxyribonucleotide (PDRN) হলো মাছের (সাধারণত স্যামন বা ট্রাউট) শুক্রাণু থেকে নেওয়া ডিএনএর ছোট টুকরো। সরাসরি মাছের শুক্রাণু ব্যবহার হয় না, বরং শুধুই ছোট, নিরাপদ ডিএনএ ফ্র্যাগমেন্ট ব্যবহৃত হয়। এগুলো ত্বকে ইনজেকশন বা মাইক্রোনিডলিংয়ের সঙ্গে প্রয়োগ করা হয়।
কীভাবে কাজ করে : পিডিআরএন কোষগুলোকে সক্রিয় করে, যাতে নতুন কোলাজেন ও ইলাস্টিন তৈরি করতে পারে। ক্ষত বা প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে এবং ত্বকের পুনর্জীবন প্রক্রিয়া দ্রুত করে। ত্বকে পানি ধরে রাখার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ফলে ত্বক ভলুমিনাস এবং আরও তরুণ দেখায়। অ্যাডিনোসিন A₂A রিসেপ্টর সক্রিয় করে, যা কোষ পুনর্জীবন ও টিস্যুর স্বাভাবিক রক্ষণাবেক্ষণকে উৎসাহিত করে।
ব্যবহার পদ্ধতি : ত্বকের নির্দিষ্ট অংশে সূক্ষ্ম ইনজেক্ট করা হয়। চোখের চারপাশ, গলা, হাতের ত্বক এবং মুখের লাইনগুলোতে বিশেষভাবে প্রয়োগ করা হয়। ত্বকে ছোট চ্যানেল তৈরি করে পিডিআরএন ফ্র্যাগমেন্ট গভীরে প্রবেশ করানো হয়। ইনজেক্ট বা মাইক্রোনিডলিংয়ের পরে হালকা হাইড্রেশন এবং সূর্যরশ্মি থেকে সুরক্ষা অপরিহার্য।
সুবিধা : বলিরেখা ও ফাঁপা ত্বক কমে। ত্বক উজ্জ্বল, মসৃণ এবং ভলুমিনাস হয়। ক্ষত দ্রুত সারানো সম্ভব। ত্বকের পুনর্জীবন প্রক্রিয়া সক্রিয় হয় ও দীর্ঘস্থায়ী ফলাফল পাওয়া যায়।
সতর্কতা : কিছু ক্ষেত্রে সাময়িক লালচে ভাব বা ফোলা দেখা দিতে পারে। ইনজেক্ট বা মাইক্রোনিডলিং অবশ্যই প্রশিক্ষিত ডার্মাটোলজিস্ট বা এস্থেটিশিয়ানের মাধ্যমে নেওয়া উচিত। নিরাপদ এবং পরীক্ষিত পণ্য ব্যবহার করা উচিত।
লেখক: ত্বক, সৌন্দর্য ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ