উখিয়ায় রত্না পালং ইউনিয়ন পরিষদে অভিযান চালিয়ে ভিডব্লিউবি কর্মসূচির সরকারি ৮২ বস্তা চাল সহ 'মাস্টাররোল' জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনা নিয়ে পুরো ইউনিয়নে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন সুলতানা এই অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এটিএম কাওছার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপকারভোগীদের বিতরণ না করে রত্না পালং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা গত এপ্রিল মাসের চাল গুদামে মজুদ করে রেখেছেন- এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এটিএম কাউছার আহমেদ অভিযানের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমার নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার শারমিন সুলতানা রত্না পালং ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন সহ চালের গুদামে অভিযান পরিচালনা করেন।
তিনি আরো জানান অভিযান কালে, ভিডব্লিউবি কর্মসূচির জন্য বরাদ্দকৃত উপকারভোগীর ৩০ কেজি করে ৮২ বস্তা চাল জব্দ করা হয়। একই সাথে মাস্টাররোল জব্দ করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, জব্দকৃত চাল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মৃণাল বড়ুয়াকে জমা ও মাস্টারোল যাচাই-বাছাই করে তদন্ত করার জন্য উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হাবিবা জাহানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রত্না পালং ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার নেজাম উদ্দিন দুলাল অভিযানের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, দুপুরে সহকারী কমিশনার ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এসে সরকারি চাল মজুদ রাখা গুদাম পরিদর্শন করেন। যে চালের বস্তা পাওয়া গেছে সেইসব চাল বিডব্লিউবি কর্মসূচির উপকারভোগী সদস্যরা নির্ধারিত সময়ে উত্তোলন না করায় জমা রয়ে গেছে।
রত্না পালং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল কবির চৌধুরী সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে জব্দকৃত ৮২ বস্তা চালের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশের দাবি জানান।
ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ডাঃ মোক্তার আহমদ বলেন, পরিষদে সহকারী কমিশনার ও অন্যান্য কর্মকর্তা এসে চাল গুদাম পরিদর্শন করেছেন শুনেছি। তবে আমি গ্রামীণ শালিস কাজে ব্যস্ত থাকায় ওই সময় পরিষদে উপস্থিত ছিলাম না।