স্টাফ রিপোর্টার, টেকনাফ
কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা স্টেশনে জামাল কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ওয়ালটন ও ভিশন শোরুমসহ অন্তত ৮টি দোকান পুড়ে গেছে। আগুন নেভানোর কাজে অংশ নিতে গিয়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে দাবি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে হ্নীলা স্টেশনের জামাল কমপ্লেক্সে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কমপ্লেক্স ও আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতার কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা দোকানের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং স্থানীয়রা আগুন নেভাতে এগিয়ে আসেন।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জামাল কমপ্লেক্সে ছেহের মিয়ার রঙের দোকানে বৈদ্যুতিক ওয়্যারিংয়ের কাজ চলাকালে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। পরে মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
আগুনের খবর পেয়ে টেকনাফ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে আগুনের তীব্রতা বিবেচনায় উখিয়া ফায়ার স্টেশনের আরও একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যোগ দেয়। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরাও আগুন নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আজিম সোহেল জানান, কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় আব্দুল মালেক নামে এক ব্যক্তির ওয়ালটন ও ভিশন শোরুম ছিল। অগ্নিকাণ্ডে শোরুম দুটিসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া কমপ্লেক্সে একটি গ্রামীণ ব্যাংকের শাখা, রঙ ও হার্ডওয়্যার দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে নিচতলার অন্তত ৮টি দোকান পুড়ে গেছে বলে তিনি জানান।
টেকনাফ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী জানান, প্রাথমিকভাবে ছেহের মিয়ার রঙের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক চেষ্টা চালান। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ তদন্ত করে নির্ধারণ করা হবে। রাত ১১টা পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ চলছিল বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৫ থেকে ৭ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।