খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, টেকসই জীবিকায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার মাধ্যমে চকরিয়া ও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ৬ হাজার দরিদ্র পরিবারে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। গত সাড়ে তিন বছরে বাস্তবায়িত একটি সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় এসব পরিবারের আয় বৃদ্ধি, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন ) বেলা ১২টায় কক্সবাজারের তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইসের শাহসুজা হলরুমে আয়োজিত প্রকল্প সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকের পক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনজিও সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আজহার উদ্দিন। সভাপতির বক্তব্য রাখেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আনন্দের নির্বাহী পরিচালক মনিরুজ্জামান মিয়া।
এছাড়া স্বাগত বক্তব্য রাখেন ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফে (ডব্লিউএইচএইচ)-এর হেড অব প্রোগ্রাম মালটে সুমেলফিদের, এরিয়া ম্যানেজার অকটাভিয়ান সৈকত সরকার, হেড অব প্রজেক্ট মো: জিয়াউল হক, ডি ডি-কৃষি, জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা, চকরিয়া উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এবং সিপের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর এ কে এম আনোয়ার হোসেন মোল্লাসহ দাতাসংস্থা ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন ।
বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য বাস্তবায়িত বিজিডি-১০৪২ প্রকল্প খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীল জীবিকায়ন, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রকল্পের মাধ্যমে চকরিয়া উপজেলার কাকারা ও কৈয়ারবিল ইউনিয়ন এবং সীতাকুণ্ড উপজেলার সৈয়দপুর ও মুরাদপুর ইউনিয়নের পরিবারগুলো বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা ও জীবিকাভিত্তিক উপকরণ পেয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক কৃষিবিদ এম. এ. কুদ্দুস। তিনি জানান, প্রকল্পের আওতায় জলবায়ু সহনশীল কৃষি, বিকল্প আয়ের উৎস সৃষ্টি, গ্রামীণ উদ্যোক্তা উন্নয়ন, দুর্যোগ প্রস্তুতি ও ঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা তাদের জীবনচিত্র তুলে ধরেন ও দাতা সংস্থা বিভিন্ন মূল্যবান সুপারিশ ও মতামত প্রদান করেন। তারা প্রকল্পের অর্জনগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখতে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় জোরদার, জলবায়ু সহনশীল কৃষি সম্প্রসারণ, স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং নারী নেতৃত্ব বিকাশে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, জার্মান কোঅপারেশনের আর্থিক সহায়তা এবং ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফে (ডব্লিউএইচএইচ)-এর কারিগরি সহযোগিতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আনন্দ ও সিপ যৌথভাবে বিজিডি-১০৪২ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।