কক্সবাজার পৌরসভা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের আইনের আওতায় আনতে সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে ব্যাপক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। পুরো মাসের নিয়মিত ও বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৫৮০ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময়ে পরিচালিত পৃথক অভিযানে আটক করা হয়েছে সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাংয়ের ৫৮ জন সদস্যকে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের মাসিক প্রশাসনিক সারাংশ অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে গ্রেফতার ৫৮০ জনের মধ্যে ১৮৯ জন চোর ও ছিনতাইকারী, ৫০ জন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, ১৭০ জন মাদকসেবী, দণ্ডবিধির ২৯০ ধারায় (গণউপদ্রব) ৩৪ জন, আদালতের পরোয়ানাভুক্ত (ওয়ারেন্ট) ১১৩ জন এবং বিভিন্ন নিয়মিত মামলার আসামি ২৪ জন।
পুলিশের শ্রেণিবিন্যাসিত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মোট গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে প্রায় ৭১ শতাংশই চোর, ছিনতাইকারী এবং মাদক কারবার ও সেবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।
মাসজুড়ে সদর থানা থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত থানা পুলিশের দৈনিক আভিযানিক তথ্যেও এই ধারাবাহিকতা প্রতিফলিত হয়।
প্রাপ্ত বিবরণী অনুযায়ী, ১২ সেপ্টেম্বর ৩০ জন, ১৬ সেপ্টেম্বর ২১ জন, ১৭ সেপ্টেম্বর ১০ জন এবং ১৮ সেপ্টেম্বর ১৫ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯ সেপ্টেম্বরের বিশেষ অভিযানে একদিনেই ৪৫ জন গ্রেফতার হন- যার মধ্যে দণ্ডবিধির ২৯০ ধারায় ২১ জন এবং বিভিন্ন আমলযোগ্য অপরাধে ১৭ জন অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ২০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তথ্যে পূর্ববর্তী দুই দিনের পৃথক অভিযানে মোট ৬০ জন গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
অভিযানের ধারাবাহিকতায় ২২ সেপ্টেম্বর ২৯ জন এবং ২৪ সেপ্টেম্বর ২৭ জন আসামিকে আইনের আওতায় আনা হয়। এরপর ২৬ সেপ্টেম্বরের অভিযানে পুলিশ আরও ৩৬ জন আসামিকে গ্রেফতারের পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে ২০০ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ, ২৪ পিস ইয়াবা বড়ি এবং মাদক বিক্রির নগদ ৩২ হাজার টাকা উদ্ধার করে।
এদিকে সেপ্টেম্বরের শেষভাগে পর্যটন এলাকা ও শহরের অলিগলিতে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক তৎপরতা রোধে কঠোর অবস্থান নেয় পুলিশ। ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কক্সবাজার পৌরসভা এলাকায় বিশেষ চিরুনি অভিযান চালিয়ে ২৫ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে ১০ জনকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত না থাকার শর্তে অভিভাবকদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়। একই দিন পৃথক অভিযানে ১৭ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন ২৮ সেপ্টেম্বর ২১ জন গ্রেফতার এবং আরও ২৫ কিশোর গ্যাং সদস্য আটকের পাশাপাশি ১২০ কেজি চোরাই তামার তার ও ১১০ পিস ইয়াবা জব্দ করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রের আইনগত ব্যাখ্যার নিরিখে, মাসিক সারাংশে দণ্ডবিধির ২৯০ ধারায় অভিযুক্ত ৩৪ জনের বিষয়টি মূলত সাধারণ জনগণের বিরক্তি বা শান্তি বিনষ্টকারী গণউপদ্রব সংক্রান্ত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতার ৫৮০ জন আসামির মোট হিসাব নির্দিষ্ট ফৌজদারি ধারায় নিবন্ধিত মামলা ও পরোয়ানার ভিত্তিতে করা হয়েছে; অপরদিকে ৫৮ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে পৃথক প্রক্রিয়ায় প্রতিরোধমূলক অভিযানের মাধ্যমে আটক করা হয়েছিল।
মাসজুড়ে পুলিশের এ বড়দাগের অভিযানকে পর্যটন শহরের আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সচেতন শহরবাসী।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, পর্যটননগরী কক্সবাজারে সাধারণ নাগরিক ও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সর্বাত্মক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চুরি, ছিনতাই ও মাদক কারবারের মতো সামাজিক ব্যাধি নির্মূলে শহর ও ইউনিয়নের বিভিন্ন মোড়, আবাসিক এলাকা এবং টার্মিনালসংলগ্ন সম্ভাব্য অপরাধপ্রবণ স্থানগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের এ ধরনের বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান ও আইনি পদক্ষেপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।