প্রতি বছর বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাছ ধরায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকারের মৎস্য অধিদপ্তর। সারাদেশের মত কক্সবাজারেও গত ১৫ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে শুরু হয় নিষেধাজ্ঞা এবং চলবে ১১ জুন পর্যন্ত। এই সময়ে সাগরে সব ধরনের মাছ ধরা ও আহরণ বন্ধ থাকবে। দীর্ঘ এই সময়ে জেলেদের জন্য (প্রণোদনা ) চাল সহায়তার বরাদ্দ দিয়ে থাকেন সরকার। বিশেষ ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় কক্সবাজার জেলেদের জন্য ৪ হাজার ৯০০ শত মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ এসেছে। নিবন্ধিত ৬৪ হাজার ২৩ জন জেলের; প্রতিজনকে দেওয়া হবে ৭৭ কেজি করে চাল।
জেলা মৎস্য অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, জেলায় নিবন্ধিত ট্রলারের সংখ্যা ১ হাজার ৬৫৪ এবং তালিকাভুক্ত জেলের সংখ্যা ৬৪ হাজার ২৩ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৮ হাজার ৫৪৪ জনের জন্য বরাদ্দ ৬৬১ মেট্রিক টন, ঈদগাঁও ১ হাজার ৭৬ জনের জন্য বরাদ্দ ৮৩ টন, চকরিয়া ৫ হাজার ৮৫৭ জনের জন্য ৪৫৩ টন, মহেশখালী ১৫ হাজার ৮৩২ জনের জন্য ১ হাজার ২২৪ টন, উখিয়া ৩ হাজার ৩৩২ জনের জন্য ২৫৮ টন, পেকুয়া ৪ হাজার ৯৬৭ জনের জন্য ৩৮৪ টন, কুতুবদিয়া ১০ হাজার ৯৫৯ জনের জন্য ৮৪৮ টন, টেকনাফ ১০ হাজার ৬৮৩ জনের জন্য ৮২৬ টন এবং রামু ২ হাজার ৭৭৩ জনের জন্য ২১৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ এসেছে। গত ১২ এপ্রিল থেকে চাল বিতরণ অনুষ্ঠান শুরু করে জেলা মৎস্য অফিস। প্রথম পর্যায়ে চারটি উপজেলা ঈদগাঁও, রামু, পেকুয়া ও চকিয়ার উপজেলার জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ শুরু হয়।
গত শুক্রবার (১ মে) কুতুবদিয়া উপজেলায় জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: নাজমুল হুদা। তিনি দৈনিক কক্সবাজারকে বলেন, 'গত ১৫ এপ্রিল থেকে নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। কিন্তু, এর তিনদিন আগে ( ১২ এপ্রিল ) থেকে প্রত্যেককে জেলে পরিবারকে চাল সহায়তা দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রথমে চারটি উপজেলায় ( ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ) ৩ হাজার ২'শো মেট্রিক টন চাউল সহায়তা আগাম দেওয়া হয়েছে। পরে অবশিষ্ট উপজেলায় চাল দেওয়া শুরু হয়েছে। এছাড়া গত শনিবার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের ৪০২ জন জেলের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই ইউনিয়নের ১ হাজার ৯৫২ জেলে পাবেন সরকারের চাল সহায়তা। আর কয়েকদিনের মধ্যে তালিকাভুক্ত সকল জেলের মাঝে চাল বিতরণ কর্মসূচি শেষ হবে।'
সরকার বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিন মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ওই ৫৮ দিন জেলেরা কাজ পান না বলে ওই সময় মৎস্য বিভাগের নিবন্ধিত পেশাদার জেলেদের খাদ্য সহযোগিতা প্রদানের জন্য বিশেষ ভিজিএফ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। এই কর্মসূচির আওতায় কক্সবাজার জেলায় উপকারভোগী জেলের সংখ্যা ৬৩৪ হাজার ২৩ জন। এরা প্রত্যকে ২ কিস্তিতে ৭৭ কেজি করে প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন চাল পাবেন।
জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা মো. আজাদের রহমান দৈনিক কক্সবাজারকে বলেন, 'নিবন্ধিত জেলেদের প্রত্যেকেই সরকারের দেওয়া ভিজিএফ চাল পেয়েছেন। কুতুবদিয়া উপজেলার জেলেরা গত শুক্রবার থেকে চাল সহায়তা পেয়েছেন।'
তিনি বলেন, 'কক্সবাজারে নিষেধাজ্ঞার তিনদিন আগে থেকে জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য বার দুই কিস্তিতে জেলেরা চাল বরাদ্দ পেতো ; এইবার একসাথে চাল দেওয়া হয়েছে।'