সারাদেশের ন্যায় ২৮ জুন দিনব্যাপী জেলায় জাতীয় ভিটামিন 'এ' প্লাস ক্যাম্পেইনের প্রথম রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে।
এদিন জেলার ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৩১৫ জন শিশুকে খাওয়ানো হবে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল সাড়ে ১১ টায় জেলা ইপিআই সেন্টারে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. টিটু চন্দ্র শীল।
তিনি বলেন, ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে জেলার সকল ৬-৫৯ মাস বয়সী শিশুকে বয়স অনুযায়ী ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল প্রদান করা হবে। জেলায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ১,৮২৪টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। জেলার ৮টি উপজেলা, ১টি পৌরসভা, ৭২টি ইউনিয়ন ও ২১৬টি ওয়ার্ডে ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। এ কার্যক্রমে ৪৮৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী এবং ৩,১৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।
ডা: টিটু চন্দ্র শীল জানান - ভিটামিন 'এ' শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি শিশুর দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় সহায়তা করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং ডায়রিয়া, হামসহ বিভিন্ন সংক্রমণজনিত রোগের জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখে। ভিটামিন 'এ' এর ঘাটতির ফলে রাতকানা, চোখের মারাত্মক ক্ষতি, অপুষ্টিজনিত জটিলতা এবং বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।
ক্যাম্পেইনে ৬-১১ মাস বয়সী শিশুদের ১টি নীল রঙের ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ১টি লাল রঙের ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
এদিকে কক্সবাজার জেলায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ১,৮২৪টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। জেলার ৮টি উপজেলা, ১টি পৌরসভা, ৭২টি ইউনিয়ন ও ২১৬টি ওয়ার্ডে ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। এ কার্যক্রমে ৪৮৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী এবং ৩,১৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক অংশগ্রহণ করবেন। এ বছর জেলায় মোট ৪,৯৩,৩১৫ জন শিশুকে ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬-১১ মাস বয়সী ৬১,৮৩৫ জন এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী ৪৩১,৪৮০ জন শিশু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
জাতীয় ভিটামিন 'এ' প্লাস ক্যাম্পেইন সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি, যা শিশুদের অপুষ্টি প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিশুমৃত্যু হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় কক্সবাজার জেলায় সফলভাবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
সকল অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকের প্রতি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে - আগামী ২৮ জুন তাদের ৬-৫৯ মাস বয়সী শিশুদের নিকটস্থ ক্যাম্পেইন কেন্দ্রে নিয়ে এসে ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল গ্রহণ নিশ্চিত করবেন এবং সুস্থ, সবল ও অপুষ্টিমুক্ত শিশু গঠনে জাতীয় এ উদ্যোগকে সফল করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা: টিটু চন্দ্রশীল জানান- জেলার ৮ উপজেলার টিকাদান কেন্দ্রের পাশাপাশি ২৬ টি ভ্রাম্যমান টিকাদান কেন্দ্রে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এছাড়াও পর্যটন শহর কক্সবাজারের বিভিন্ন ভাসমান এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শিশুদের এদিন ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর টার্গেট করা হয়েছে। বিশেষ করে সমুদ্র সৈকত এলাকা কলাতলী, সুগন্ধা পয়েন্ট, নাজিরারটেক এলাকায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো থেকে বাদ যাবে না।
নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার শিশুরা পেকুয়া উপজেলার আওতাধীন স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে এবং ঈদগাঁও উপজেলার শিশুদের সদর উপজেলার আওতাধীন স্বাস্থ্য বিভাগের অধিনে ভিটামিন এ টিকা খাওয়ানো হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন উল্লেখ করেন।