কক্সবাজার পৌরসভা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন এলাকায় অপরাধ প্রতিরোধ, চুরি-ছিনতাইয়ের উপদ্রব রোধ এবং সার্বিক জননিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে এক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। রোববার পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত ও একাধিক মামলার পরোয়ানাভুক্ত দুর্ধর্ষ চোর-ছিনতাইকারী, মাদকসেবী ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধে জড়িত থাকা সর্বমোট ৪০ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের বেশ কয়েকটি দল পৌর এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নগুলোর অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে রাতভর চিরুনি অভিযান চালায়। এ সময় মোট ৪০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ২ জন চিহ্নিত চোর ও ছিনতাইকারী, ১৪ জন মাদকসেবী, দণ্ডবিধির ২৯০ ধারায় গণউপদ্রবের অভিযোগে ১৮ জন, আমলযোগ্য অপরাধে ৫ জন এবং বিজ্ঞ আদালতের পরোয়ানাভুক্ত ১ জন আসামি রয়েছে।
অভিযানে ধৃত দুই চিহ্নিত ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে সংঘটিত একাধিক চাঞ্চল্যকর ও গুরুতর অপরাধের ইতিহাস রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে কক্সবাজার পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বাহারছড়া এলাকার মোঃ হাসানের ছেলে নুর মোহাম্মদ (২৬)-এর বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ডাকাতির প্রস্তুতি ও অবৈধ অস্ত্র আইনে সদর থানায় দুটি পৃথক মামলা বিচারাধীন। অন্য ছিনতাইকারী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সাহিত্যিকার পল্লীর শামসুল করিমের ছেলে মাসুদুল করিম ওরফে মাসুদ করিম (৪৪)-এর বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রাক-প্রস্তুতি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং মারামারির ঘটনায় সদর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
এদিকে শহরের মাদক নির্মূল অভিযানে পশ্চিম বাহারছড়া, বাদশাঘোনা, সমিতিপাড়া, লারপাড়া, কুতুবদিয়াপাড়া এবং ঝিলংজাসহ বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ১৪ জন মাদকসেবীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন বাদশাহঘোনার সাদ্দাম হোসেন (২৮), সমিতিপাড়ার মোঃ তানজিদ (১৮), পশ্চিম বাহারছড়ার দুলু হোসেন (২০), মিরাজ (২০), আব্দুর রহিম (২২), নুরু কবির (২২), মোঃ ইকবাল হোসেন (২২), কুতুবদিয়াপাড়ার মোঃ ফয়সাল (২৪), ঝিলংজার মোঃ দেলোয়ার (৩০), লারপাড়ার নুর মোহাম্মদ আরিফ (২২) ও তাইমন উদ্দিন ওরফে সায়মন উদ্দিন (২৫), চত্বর ঘোনার রবিউল (২০), পেশকার পাড়ার হাসনাত করিম ওরফে রিপন (২৫) এবং মহেশখালী থেকে এসে বর্তমানে পশ্চিম বাহারছড়ায় অবস্থান করা মোঃ জিসান (২১)।
পাশাপাশি পর্যটন নগরীর জনপরিসরে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটানো ও গণউপদ্রব সৃষ্টির অপরাধে গ্রেফতার করা হয় ১৮ জনকে। ধৃতদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা ছাড়াও লোহাগাড়া, চকরিয়া, টেকনাফ, ঈদগাঁও, জয়দেবপুর (গাজীপুর), কেরানীগঞ্জ, রাজশাহী ও বগুড়া থেকে এসে অপকর্মে লিপ্ত হওয়া মারিয়া আক্তার জান্নাত (১৯), রুমা আক্তার (১৯, রোহিঙ্গা), হালিমা আক্তার (১৯), সাথী আক্তার (২৩), মোছাম্মৎ হাবিবা খাতুন (২১), জান্নাতুল ফেরদৌস শারমীন (১৯), মোঃ আরিয়ান (২০), মোঃ শাওন (৩২), মোঃ শাহেদ (২২), জিয়াউর রহমান জনি (২৪), মোঃ সাদ্দাম হোসেন (২৫), মোঃ শওকত (২২), মুফিজুর রহমান (২৮), আবুল হাশেম (৩৮), মোঃ ইয়াছিন কাদের (২২), মোঃ আমিন (২৫), মোঃ ইউনুস (৩৫) এবং মোঃ মুসলিম উদ্দিন আকাশ (২৮) রয়েছেন।
এ ছাড়া আমলযোগ্য অপরাধে জড়িত থাকায় পুরাতন ফায়ার সার্ভিস এলাকার গাজী সালাউদ্দিন জিকু (২৬), পানবাজার রোডের নুরুল আলম বিপ্লব (৪০), এবিসি ঘোনার সাইনুর মনি শিমুল (২৫), এস.এম পাড়ার নাছির উদ্দিন (৩৫) এবং মহেশখালীর উত্তর রাজঘাটের আকমল উদ্দিন আকিব খান (২৫)-কে গ্রেফতার করা হয়।
আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানামূলে পূর্ব মাছবাজার রাখাইন পাড়ার মাহে রাখাইন নামের এক নারীকে আটক করে পুলিশ।
কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ জানায়, স্থানীয় অধিবাসী ও দেশ-বিদেশ থেকে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা সুসংহত রাখতে এই ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। জেলা জুড়ে অপরাধ চক্রের মূলোৎপাটন না হওয়া পর্যন্ত পুলিশি এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। আটককৃত সকল আসামির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিচারার্থে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।