কক্সবাজার পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন এলাকায় অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে চোর, ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ সর্বমোট ২৭ জনকে গ্রেফতার করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। গতকাল পরিচালিত এই সমন্বিত অভিযানে পৌর এলাকা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সদর মডেল থানা পুলিশের বিশেষ এই অভিযানে ৩ জন চোর ও ছিনতাইকারী, ১ জন মাদক ব্যবসায়ী, ৪ জন মাদক সেবনকারী, ১৪ জন বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তি এবং ৫ জন পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানে চোর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে গ্রেফতার হন কক্সবাজার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ঘোনার পাড়া এলাকার রবিউল হাসান প্রকাশ হাসান মনি (২৩), ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বৈদ্যঘোনা এলাকার মো: রবিউল হাসান জুয়েল (২৪) এবং রামু উপজেলার চাকমারকুল এলাকার জিয়া উদ্দিন বাবু (২৮)।
এছাড়া খুরুশকুল এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মোঃ রিফাত উদ্দিন মানিককে (২৫) মাদকসহ গ্রেফতার করা হয়। পাশাপাশি মাদক সেবনের অপরাধে পেকুয়া বারবাকিয়া এলাকার এমরান হোসেন (৩০), খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্পের মোঃ জিদান (২১) ও মোঃ ইসমাইল (২০) এবং খুরুশকুল আদর্শগ্রামের মোঃ সাঈদ উদ্দিন রিফাতকে (১৯) আটক করে পুলিশ।
বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকায় আটক হয়েছেন পিএমখালী ইউনিয়নের মধ্যম নয়াপাড়ার মোহাম্মদ ফয়সাল (৩০), জুমছড়ির হামিদুল হক (৩৩) ও শাহিনা আক্তার (৫৫), সুইজগেট এলাকার রিশমা বিবি (২০), মহসেনিয়া পাড়ার মোহাম্মদ জুনায়েদ (২০) এবং মাছুয়াখালীর মোহাম্মদ তারেক (২২)। একই অপরাধে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া আদুনগর এলাকার মোহাম্মদ ফরহাদ (২০) ও ঈমাম উদ্দিন (২৩), টেকনাফের ছোট হাবিব পাড়ার নুর হোসেন (৩২), বান্দরবানের লামার আজমির টিপু (২৬), ঝিলংজা খুরুলিয়ার রিয়াদ হাসনাত রিফাত (১৯) ও মোহাম্মদ তারেক জিয়া (১৯), খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্পের মোহাম্মদ নুরশাদ (১৯) এবং বর্তমানে সমিতি পাড়ায় বসবাসরত মহেশখালী গোরকঘাটা এলাকার ওমর ফারুক প্রকাশ মারুফকে (২০) গ্রেফতার করা হয়েছে।
অন্যদিকে আদালতের পরোয়ানাভুক্ত ৫ জন পলাতক আসামি হলেন- কক্সবাজার পৌরসভার পূর্ব মোহাজের পাড়ার রোহিত (২০) ও সাকিব (২২), পেশকার পাড়ার মোঃ আলমগীর (৪২), চৌফলদন্ডী হায়দার পাড়ার বেদারুল আলম প্রকাশ বেদার মিয়া (৪৮) এবং নতুন বাহারছড়া এলাকার আরফাতুল ইসলাম।
কক্সবাজার শহর ও আশেপাশের এলাকায় অপরাধ নির্মূল এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এই বিশেষ চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সদর থানা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ২৭ আসামির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।