কক্সবাজার পৌরসভা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অপরাধ দমনে গতকাল বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী, মাদক কারবারি, সেবনকারী ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ।
অভিযানকালে আটক মাদক কারবারিদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ইয়াবা ট্যাবলেট।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৌরসভা ও আওতাধীন ইউনিয়নগুলোর বিভিন্ন চিহ্নিত অপরাধপ্রবণ এলাকায় একযোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন ১ জন পরোয়ানাভুক্ত দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী, ৪ জন চিহ্নিত ইয়াবা কারবারি, ৭ জন মাদকসেবনকারী, ৪ জন বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত এবং ২ জন সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি।
গ্রেপ্তারকৃত ছিনতাইকারী মোবারক ওরফে সালমান ওরফে ঈদ মোবারক (২৬) পিএমখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ধাউনখালী এলাকার বাসিন্দা। তিনি এলাকার একজন চিহ্নিত অপরাধী এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন ও পেনাল কোডের চুরি সংক্রান্ত ধারায় কক্সবাজার সদর থানায় একাধিক মামলা বিচারাধীন।
অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া চার ইয়াবা কারবারি হলেন পৌর এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম কুতুবদিয়া পাড়ার বেলাল হোসেন (২৮), টেকনাফের সাবরাং থেকে এসে কক্সবাজার পৌরসভার গাড়ির মাঠ এলাকায় অবস্থান নেওয়া এরফানুল করিম (২৯), কুতুবদিয়া পাড়ার জুনায়েদ (২০) এবং একই এলাকার পারভেজ ওরফে মনু (২০)। পুলিশের প্রাথমিক তল্লাশিতে তাঁদের কাছ থেকে ৪৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।
অন্যদিকে, মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়েছে নাজিরার টেকের নাসির উদ্দিন (৪৫) ও মোঃ কালু (৪০), কুতুবদিয়া পাড়ার জমির উদ্দিন (৪০), ঝিলংজার দক্ষিণ ডিককুলের শাহরিয়ার ছিদ্দিক তাওসিফ (২৩), নতুন বাহারছড়ার ফারদীন রহমান (২৪), খুরুশকুলের নুরুল আলম (৩৫) এবং পিএমখালীর মহসনিয়া পাড়ার মোঃ ইউনুছকে (২৬)।
এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ ও আমলযোগ্য অপরাধে জড়িত থাকায় খুরুশকুলের মো. জাহেদ (১৯) ও মোঃ আব্দুল্লাহ (২৬), পৌরসভার টেকপাড়ার নাহিদুল ইসলাম (২০) এবং উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১/ডব্লিউ থেকে আসা রোহিঙ্গা নাগরিক মোহাম্মদ আলীকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি বৈইল্ল্যা পাড়ার রিপন বড়ুয়া এবং দক্ষিণ সাহিত্যিকা পল্লীর মোঃ রাসেলকে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মূলে আটক করেছে পুলিশ।
কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, পর্যটন শহর ও সংলগ্ন ইউনিয়নগুলোতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মাদক নির্মূল এবং ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই ধরনের বিশেষ অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।