কক্সবাজার পৌরসভা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ দমনে পরিচালিত পুলিশের বিশেষ অভিযানে চোর, ছিনতাইকারী ও মাদক কারবারিসহ মোট ১৪ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ।
অভিযানকালে বিপুল পরিমাণ চোরাই মালামাল উদ্ধার এবং ভাঙারি দোকান থেকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে পেশাদার অপরাধীদের।
সদর মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, পর্যটন নগরীর নিরাপত্তা বিধান ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড নির্মূলে পরিচালিত এই অভিযানে ৫ জন চোর ও ছিনতাইকারী, ৪ জন মাদক কারবারি, ৩ জন মাদক সেবনকারী, ১ জন ধর্তব্য অপরাধে যুক্ত ব্যক্তি এবং ১ জন পরোয়ানাভুক্ত (ওয়ারেন্ট) আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ঝাউতলা গাড়ির মাঠ সংলগ্ন একটি ভাঙারি দোকানে চোরাই মালামাল কেনাবেচার গোপন সংবাদ পায় পুলিশ। তাৎক্ষণিক অভিযানে ভাঙারি দোকান থেকে জাহাঙ্গীর আলম (৫৫) ও মোঃ শাকিল (১৯) নামের দুই চোরকে আটক করা হয়। এ সময় জাহাঙ্গীর আলমের কাছ থেকে ৩০ কেজি লোহার জিআই পাইপ, ১১ কেজি পুরাতন গাড়ির জগ, ১১ কেজি তামার তার, ১১ কেজি গুনা তার, ৮ কেজি পিতল সামগ্রী ও একটি পানির টিউবওয়েল এবং শাকিলের হেফাজত থেকে ১০৫ ফিট চোরাই ইলেকট্রিক ক্যাবল জব্দ করা হয়।
এছাড়া ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব টেকপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৪০ লিটার দেশীয় চোলাই মদ ও নম্বরপ্লেটবিহীন সিএনজিসহ রামুর খুনিয়াপালং এলাকার দুই মাদক কারবারি মোঃ আরাফাত (২৫) ও মোঃ আকতার কামালকে (২০) আটক করে পুলিশ। একই সঙ্গে উত্তর নুনিয়ারছড়ার মোঃ আমির হোসেন (৫৮) ও টেকপাড়ার ভাসমান বাসিন্দা মোহাম্মদ রাজুকে (২০) মাদক বিক্রির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানে আটক অন্য আসামিরা হলেন- চোর ও ছিনতাইকারী ক্যাটাগরিতে দক্ষিণ কলাতলীর রবিউল হাসান (২৭) ও আনোয়ার হোসেন আনু (৪৮) এবং খুরুশকুলের মোঃ ইমরুল (২৫)। মাদক সেবনের অভিযোগে আটক করা হয়েছে বৈদ্যঘোনার আব্দু সালাম (৫০), ঈদগাহ পুকুখালীর আবদুল্লাহ আল মামুন (২২) এবং নতুন বাহারছড়ার মোঃ শাহ আলমকে (৪০)। অন্যদিকে ধর্তব্য অপরাধে সমিতি পাড়ার নুর মোহাম্মদ প্রকাশ কালু (২১) এবং উত্তর রুমালিয়ারছড়া এলাকা থেকে পরোয়ানাভুক্ত আসামি মোঃ কায়ছারকে গ্রেফতার করা হয়।
কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত সকল আসামির বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।