ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় তথা বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে রোববার (৭ জুন)। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনে শুরু হওয়া এই অধিবেশনের প্রথম দিনেই কক্সবাজার জেলার গণমাধ্যম চিত্র এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের কল্যাণ নিয়ে একটি বিস্তারিত তথ্য সংসদে উত্তাপিত হয়েছে। কক্সবাজার-৩ ( সদর, রামু, ঈদগাঁও ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল-এর এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
জেলার বর্তমান সংবাদপত্র পরিস্থিতি ও সাংবাদিকদের সহায়তায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের এই তথ্য তুলে ধরা হয়।
সংসদে উপস্থাপিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পর্যটন নগরী কক্সবাজার জেলা থেকে বর্তমানে দৈনিক, সাপ্তাহিক এবং মাসিক মিলিয়ে মোট ৩১টি পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে। এই ৩১টি পত্রিকার মধ্যে বড় অংশই দৈনিক পত্রিকা। জেলাটি থেকে নিয়মিত ২৭টি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে চকোরী, হিমছড়ি, আজকের কক্সবাজার বার্তা, কক্সবাজার বাণী, ইনানী, সমুদ্রকণ্ঠ, আমাদের কক্সবাজার, বাঁকখালী, দ্য কক্স টুডে, দ্য ডেইলি ট্যুরিস্ট, সাগরদেশ, সকালের কক্সবাজার, কক্সবাজার একাত্তর, রূপালী সৈকত, গণসংযোগ, মেহেদী, কক্সবাজার সংবাদ, সহযাত্রী, কক্সবাজার, আজকের দেশবিদেশ, আজকের কক্সবাজার, রূপসীগ্রাম, আপনকণ্ঠ, সৈকত, দৈনন্দিন, সমুদ্রবার্তা এবং মায়ের দেশ।
তবে এই বিপুল সংখ্যক দৈনিকের মধ্যে সরকারিভাবে মিডিয়া তালিকাভুক্ত এবং সর্বাধিক প্রচারিত পত্রিকা হিসেবে স্থান পেয়েছে ৮টি দৈনিক। এই তালিকায় রয়েছে দৈনিক কক্সবাজার, দৈনিক সৈকত, দৈনিক বাঁকখালী, দৈনিক আজকের কক্সবাজার, দৈনিক রূপসী গ্রাম, দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ, দৈনিক মেহেদী এবং দৈনিক দৈনন্দিন।
দৈনিক পত্রিকার পাশাপাশি জেলাটিতে ৩টি সাপ্তাহিক পত্রিকা রয়েছে, এ পত্রিকাগুলো হলো- সাগরকণ্ঠ, দরিয়া নগর ও আলোকিত উখিয়া এবং ১টি মাসিক পত্রিকা হিসেবে রয়েছে ‘কক্সবাজার সৈকত’।
গণমাধ্যমের এই বিকাশের পাশাপাশি স্থানীয় সংবাদকর্মীদের পেশাগত ঝুঁকি, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টিও মন্ত্রীর জবাবে গুরুত্বের সাথে উঠে এসেছে। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলার সাংবাদিকদের কল্যাণে সরকারের পক্ষ থেকে এ যাবৎ মোট ৭৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেলার মোট ১২৩ জন সংবাদকর্মী ও তাদের পরিবার এই আর্থিক সহায়তার আওতায় এসেছেন। এই অনুদান মূলত সাংবাদিকদের চিকিৎসাজনিত খাত, অসচ্ছলতা দূরীকরণ এবং শিক্ষাবৃত্তির মতো তিনটি জরুরি ক্ষেত্রে বণ্টন করা হয়েছে।
বরাদ্দের সবচেয়ে বড় অংশ ব্যয় হয়েছে সাংবাদিকদের চিকিৎসায়; যেখানে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ও চিকিৎসাধীন ৭৩ জন সাংবাদিককে জরুরি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ও জীবনমান উন্নয়নে মাঠপর্যায়ের ৫০ জন অসচ্ছল সাংবাদিককে দেওয়া হয়েছে কল্যাণ অনুদান। একই সাথে সাংবাদিক পরিবারের মেধাবী সন্তানদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করতে ১ জন শিক্ষার্থীকে ২৪ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।